ধর্মের চিপায় নামের বিড়ম্বনা - কাঁধে যখন বিদেশী সাংস্কৃতি

ধর্মের চিপায় নামের বিড়ম্বনা
মজমা'য় তাবিজ বিক্রেতা মলম বিক্রেতার মতো লোকস্বরাগমের আপ্যায়নের জন্য আপনাকে ডাকতে পারবো না তবে এতটুকু নিশ্চিত হাত পা'য়ের মতো চোখ গুটিয়ে চলে যাওয়া পাঠকদের দীর্ঘ লেখা পড়ার শ্রম পণ্ডশ্রম হবে না লেখক হিসেবে অতটুকু আশাবাদী আমি।

এ লেখাতে যে কয়টি বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট তুলে ধরার চেষ্টা করবো তা হলো -
  • মিথ্যাচারের মাধ্যমে এ উপমহাদেশে আরবীয় সংস্কৃতির প্রচলন।
  • পূর্বপুরুষদের অজ্ঞতার দায়ভার একজন মানুষ শিশুকাল হতে বেঁচে থাকা অবধি বহন করে চলা।
  • বিবেকের আদালতে নামের তাৎপর্যয় ।
  • সুন্নত সংস্কৃতি এবং অপসংস্কৃতি ।


একজন মানুষের আজীবন বহন করে চলা একটি বিশেষ্য হলো নাম। মনে করুণ ছোট বেলায় আপনার পিতামাতা অজ্ঞতাবশত আপনার নাম রেখে দিলো "গাধা"। মৃত্যু অবধি এই "গাধা" নামটা নিয়েই আপনার কালপাত করতে হবে।

কি? উদ্ভট লাগছে? আপনি হয়তো ভাবতে পারেন জেনে বুঝে কেউ তার সন্তানের নাম "গাধা" রাখতে পারে না। কিন্তু আমরা অজ্ঞতাবশত নিজেরাই এ'সমস্ত নাম রাখি। কিভাবে তা আস্তে আস্তে খোলাসা করছি।

বাংলাদেশে সাধারণত ধর্মের উপর ভিত্তি করে'ই নাম রাখা হয় যেমন ইসলামি নাম, হিন্দু নাম, খ্রিষ্টান নাম। ব্যাপারটা কতখানি যুক্তিযোগ্য তা আমি মধ্যপন্থী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবো।

একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করি-
বাচ্চাদের প্রতি ঝোঁকটা আমার কম দিনের নয়। যদি ও স্বর্গীয় ফরগীয় আমি বিশ্বাস  করি না তবুও বাচ্চা দেখলে মনে হয় স্বর্গীয় অবতার । বাচ্চাদের সাথে আমার আবার  জমে'ও ভালো। যা ই হোক মূল ঘটনায় আসি প্রচন্ড চাপ ঠেলে লেগুনা'য় উঠলাম। ঢাকা শহরে লেগুনা'কে বলা চলে গরীবের মাসিহা। আমার ঠিক সামনের সিটে বোরখা পরা একজন মহিলা বসা চোখ দুটো ছাড়া কিছুই দেখা যায় না তার কোলে প্রচন্ড আদুরে একটা শিশু ঘুমে কাতর হয়ে আছে। ছোটবেলায় মায়ের মুখে রুপকথার গল্প শুনেছিলাম সাগর নাকি কাছে টানে এইরকম কিছু শিশু দেখলেই বোধহয় তারা শুধু কাছে টানে। কয়েকবার ভেংচি কাটায় শিশুটি চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে কয়েকবার পায়ের আঙুল ধরে ও টান দিয়েছি।

আমাকে ছোঁয়ার জন্য শিশুটি হাত বাড়িয়েছিলো। আমার ও খুব ইচ্ছে করছিলো শিশুটিকে স্পর্শ করবার তৎক্ষণাৎ পুরনো একটি স্মৃতি আমার মস্তিষ্ক চারণ করলো রাজধানীর পল্টন এলাকায় একবার খুব আদুরে একটা শিশুকে আদর করার অনুমতি চাওয়ায় তার পিতামাতার কড়া সূর শুনতে হয়েছিলো। থাক সে হৃদয় বিদারক কাহিনী আর মনে করতে চাই
না। অত:পর বোরখা পরা মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম - ওর নাম কি?
বললেন - হুরায়রা।
কিছুটা ব্যাথিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম - কে দিয়েছে নাম?
উনি জবাব দিলেন - ওর বাবা।
অপরিচিতদের সাথে বাড়তি কথাবার্তা আমি তেমন পছন্দ করি না তাই উনাকে নাম
সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলিনি।
শুধু বলে দিয়েছি ওর বাবাকে একটু জিজ্ঞেস করবেন এ নামের বাংলা অর্থ কি।

যেহেতু নামের সাথে ধর্মের একটা যোগসূত্র আছে তাহলে চলুন এবার একটু আরবীয়
ইতিহাস দেখে আসি। ইসলাম গ্রহণের পর নবী মুহাম্মদের অনেক সাহাবি'র নাম তখনকার অনেক পৌত্তলিক বা
ইহুদী খৃষ্টানদের নামে ছিলো । যেমন ধরেন নবী মুহাম্মদের দুজন দাসীর নাম ছিলো মারিয়া এবং রিহানা। আরবে তখন মারিয়া এবং রিহানা নামক মুসলিম নারী ও ছিলো আবার ইহুদী নারীর নাম ও ছিলো । ধর্ম গ্রহণ বা পরিবর্তনের আগে পরে কারো নামের'ই কোনো পরিবর্তন হয়'নি।

সাদ্দাম হোসেনের খুব কাছের একজন বন্ধু্র নাম তারেক আজিজ । সাদ্দাম হোসেনের পরামর্শদাতা এবং ইরাকের বিখ্যাত রাজনিতিবীদ।নাম মুসলিম টাইপের হলেও তিনি ছিলেন ক্যালিডিয়ান খ্রিষ্টান। সুতরাং এ কথা এখন স্পষ্ট যে নামের কোনো ধর্ম নেই। নাম কোনো ধর্মের ব্যাক্তিগত সম্পদ নয়। নবী মুহাম্মদের জন্মের পূর্ব হতেই মক্কাবাসীরা তাদের পূর্বপুরুষদের নামের সাথে সংযুক্ত রেখে নাম রাখতো অন্তত দশপূরুষ পর্যন্ত তারা মনে রাখতো মজার ব্যাপার হচ্ছে মক্কাবাসীরা পশুপাখির সাথে মিলিয়ে ও নাম রাখতো এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম পশুপাখির সহিত মিলিয়ে নাম রাখা সংস্কৃতি চালিয়ে যেত।

যেমন ধরুন, আমার বাবার নাম বকর। তাহলে আমাকে ডাকা হবে রিয়াজ বিন বকর। এবার আসুন উল্লেখিত ঘটনার সহিত সম্পৃক্ত দুটি আরবী নামের অর্থ জেনে নেই।

আবু হুরায়রা= বিড়ালের পিতা

আবু বকর= ছাগলের পিতা ।

এই রকম কুরানের সূরার নামের ক্ষেত্রে ও হয়েছে যেমন ধরেন - বাকারা শব্দের অর্থ " গবাদিপশু "।

ঘাড়ের উপর দেড় কেজি ওজনের মস্তিষ্ক খাটিয়ে আপনার বিবেক কি অনুমতি দেবে আপনার সন্তানের নাম "বিড়ালের পিতা" "ছাগলের পিতা" এ সমস্ত নাম রাখার? প্রশ্ন রইলো আপনার কাছে।

এ দুটো নাম শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে এ'রকম অসংখ্য আরবী নাম রয়েছে যা আমরা এখনো নিজেদের সন্তানদের নাম রেখে আসছি ।

আমাদের বলা চলে "আমরা হুজুগে মাতাল" । এ হুজুগে মাতাল নিয়ে একটি ছোট্ট গল্প বলা যাক-

আন্তা ইবনে সাদ্দাত, আসমা বিনতে মারওয়ান, আব্দুল আজিজ সহ বেশ কিছু কবির কবিতা আবৃতি ছোট বোনের ফোনে সংরক্ষণ করে রেখেছি সেগুলো লেখা হয়েছিলো নবী মুহাম্মদের বাবা'র দাদা'র আমলে (আসমা ব্যাতিত) ।
কুরানের আয়াতের মতো টেনে টেনে আবৃতিকে পরিবারের সবাই ভাবলেন আল্লাহ্‌ পাক বোধহয় হেদায়েত দান করেছেন তাই আমি কুরান তিলাওয়াত শুনছি। সবার কানাঘোসা দেখে জিজ্ঞেস করলাম- কি শুনছেন? উত্তর দিলেন- কি মধুর কুরানের আয়াত। শুনলেই প্রাণ জুড়ায়।

বুঝতে'ই পারছেন আমাদের অজ্ঞতার স্থান কত গভীরে। শতকরা হিসেব করে আমি ধর্ম অধর্ম বিচার করি না তবুও বলা লাগে এদেশের বেশিরভাগ ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো একটু বেশি'ই অজ্ঞ এবং কট্টরপন্থী।


এবার আসুন দেখে নেই নাম রাখা সম্পর্কে ইসলাম কি বলে বা নবী মুহাম্মদ নাম রাখা সম্পর্কে কি কি বলে গেছেন। নাম রাখা সম্পর্কে কঠোর বিধিনিষেধ বা নির্দেশনা ইসলাম কখনো দিয়েছে কি না তা আমার জানা দেই তবে কিছু জাঈফ হাদিস হাসান হাদিস আছে সেগুলো ইসলাম তেমন গুরত্ব দেয় না।

তবে মুসলিম শরিফের নিম্নোক্ত হাদিসটি সকল স্কলারদের কাছেই গ্রহণযোগ্য এবং সত্য বলে মনে হয়েছে -

ইবনু উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হচ্ছে- আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও  আব্দুর রহমান (রহমানের বান্দা)।”
- [সহীহ মুসলিম] হাদিস- ৫৪০২

আব্দ শব্দের অর্থ বান্দা । সে সূত্রে আপনি আপনার সন্তানের নামের পূর্বে আব্দ শব্দটি ব্যাবহার করতে পারবেন। যেমন ধরুন-

আব্দুল কারীম (সম্মানিতের বান্দা)
আব্দুর রহীম (করুণাময়ের বান্দা)

অনুরুপ, "আব্দুন নবী" বা এইরুপ বহু নামকে ইসলাম হারাম করেছে মাখরুহ করেছে যার কোনো লিখিত দলিল আছে বলে মনে হয় না। ইসলামের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গেলে এসব আমার শুধু বেদআত ই মনে হবে।

গুগলে সার্চ দিয়ে আপনি ইসলামের মাখরুহ নাম দেখতে পাবেন, হারাম নাম গুলো ও পাবেন উত্তম নামগুলো ও পাবেন । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলাম নাম সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা দিয়েছে বলে মনে হয় না। এর মধ্যে উপরে উল্লেখিত মুসলিম হাদিসটির  হাদিসের মান সম্পূর্ণ সহিহ। শয়তানের নাম রাখা হারাম, উপাসকের নাম রাখা হারাম, চন্দ্র সূর্যের বান্দা ইত্যাদি নাম রাখার হারামের গ্রহণযোগ্য দলিল কতখানি সত্য তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যাক এব্যাপারে আমি স্কলার নই সুতরাং এ ব্যাপারে আর কথা না বাড়াই।

এবার আসি সুন্নত এবং সংস্কৃতি বিষয়ে -
সংস্কৃতি একটি দেশের ভৌগোলিক, সামাজিক, জৈবিকসহ নানা বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত হয় । আরেকটু স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে ভৌগোলিক, সামাজিক, জৈবিকসহ নানান বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি পৃথক পৃথক ভাবে গঠিত হয়। নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশে বসে আমরা মরুভুমির দেশ আরবের সংস্কৃতি অনুকরণ অনুশীলন করি তা নিছক হাস্যকর। তারা খেজুর খায় বলে আমরা ও খেজুরকে সুন্নতি ফল মনে করি ভৌগলিক অবস্থানের কারনে আরবদের পরা জুব্বা পায়জামা আমরা সুন্নতি পোষাক মনে করি।

সে সুত্রে বলা লাগে, নবী মুহাম্মদের জন্ম আরবে না হয়ে আইসল্যান্ডে হলে আমাদের হয়তো আজ উল দিয়ে বানানো আপাদমস্তক জ্যাকেট পরে থাকতে হতো শীত গ্রীষ্ম বরষায় জ্যাকেট আর জ্যাকেট আবার আফ্রিকান জঙ্গলের কোনো বর্বর গোষ্ঠীতে হলে হয়তো পশু'র ছাল পরে থাকতে হতো শীত গ্রীষ্ম বরষায় শুধু ছাল বাকল ।

পরিশেষে আপনার সন্তানের সুন্দর বাংলা নাম এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

লেখক - রিয়াজ মোহাম্মাদ নোমান

প্রেমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ইসলামী নিষ্ঠুরতা

প্রেম ও যৌনতা মানুষের মৌলিক চাহিদা
একজন মানুষ সে নারী বা পুরুষ যে লিঙ্গেরই হোক বা কেন যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন সে প্রেমসঙ্গীর আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে, এই প্রেম সঙ্গী হতে পারে তার সমলিঙ্গের অথবা তার বিপরীত লিঙ্গের। বিশ্বের প্রত্যেকটি সভ্য দেশে প্রতিটি নারীপুরুষ প্রাপ্তবয়স্ক হলেই তাদের নিজের পছন্দমত প্রেমসঙ্গী বাছাই করার স্বাধীনতা রাখে; অথচ মুসলিমসংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহে মানুষের প্রেমসঙ্গী স্বাধীনভাবে নির্বাচন করার অধিকার তো দূরের কথা; প্রেম বা যৌনতা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা করাই একটা নিষিদ্ধ বিষয়।


প্রেম এবং যৌনতা হচ্ছে মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা, ইসলামের প্রবর্তক মোহাম্মাদ নিজেও বহু নারীর দেহভোগ করেছেন, তার অনুসারীদেরকে দিয়ে যুদ্ধবন্দিনী সম্ভোগ করিয়েছেন অথচ মোহাম্মাদ তার বানানো আইনে নারীদের স্বাধীনতা কিংবা নারীদের ইচ্ছা/সম্মতিকে প্রাধান্য দেননি, চালু করেছিলেন পুরুষতান্ত্রিক বিয়ে যেখানে পুরুষের সব প্রাধান্য; আর্থিক দিক দিয়েও আবার যৌনতার দিক দিয়েও এবং মোহাম্মাদ সমকামিতাকেও নিষিদ্ধ করেছিলেন।

সূরা আল-আরাফ এর ৮০ থেকে ৮১ আয়াত দেখুনঃ

"এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ?"

"তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।"

যদিও মোহাম্মাদের এই লূত নবীর কাহিনী ইহুদী-খ্রিষ্টান ধর্ম থেকে ধার করা, কিন্তু তাও মোহাম্মাদ সমকামিতার বিরোধিতা করতেন তা আপনাদের কাছে আমি পরিষ্কারভাবে বুঝাচ্ছি আরো কয়েকটি তথ্যসূত্রের মাধ্যমে। যেমনঃ সূরা আশ-শোয়ারার ১৬৫ আর ১৬৬ নং আয়াত সমকামিতা সম্পর্কেই

" সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?"

" এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।"

কোরআনের ২৭নং সূরা আন-নমলের ৫৪ থেকে ৫৭ নম্বর আয়াতঃ

"স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললো, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম।" 

আয়াতটিতে শুধু নারীরাই ভোগ্যবস্তু এরকমটা বোঝানো হয়েছে যা স্পষ্টঃতই নারীঅবমাননা।

একটি হাদীস দেখুন এই ব্যাপারেঃ

"ইবনে আব্বাস বলেন, রসুল (সঃ) বলেছেন, তোমরা যদি কাউকে পাও যে লুতের সম্প্রদায় যা করতো তা করছে, তবে হত্যা করো যে করছে তাকে আর যাকে করা হচ্ছে তাকেও।" (আবু দাউদ, ৩৮ঃ৪৪৪৭)

বর্বর মোহাম্মাদ সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে রেখে গিয়েছিলেন যা আজ সৌদি আরব, ইরানের মত অসভ্য দেশগুলোতে পালিত হয়।

মোহাম্মাদ যদিও প্রেম করে বিয়ে করার (বিপরীত লিঙ্গের কাউকে) বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলেননি কিন্তু যেহেতু ইরান কিংবা সৌদি আরবে প্রেম করলে যিনার দোষ দেওয়া হয় তাই এ সম্পর্কিত কোরআনের এবং হাদীসের উদ্ধৃতি দেখাচ্ছিঃ

সূরা আল-মায়িদার ৫ নং আয়াতঃ

"তোমাদের জন্য হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান করো তাদেরকে স্ত্রী করার জন্যে, কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কিংবা গুপ্ত প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্যে নয়"

আয়াতটির শেষ কথা দেখুন 'গুপ্ত প্রেম' অর্থাৎ নর-নারীর সম্মতিমূলক পারস্পরিক প্রেম-ভালোবাসার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আবার দেখুনঃ

"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা সম্পর্কে অবগত আছেন। " (সূরা নূর : ৩০) 

দৃষ্টি নত রাখলে কিভাবে একজন মানুষ তার প্রেমসঙ্গী নির্বাচন করবে? এখানেও নিষেধাজ্ঞা।

আবার নিম্নোক্ত আয়াতটি দেখুনঃ

"হে, নবী পত্নীগন! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি (পরপুরুষ) কুবাসনা করে,যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। "(সূরা আল-আহযাব : ৩২) 

'কুবাসনা', 'ব্যাধি' দ্বারা এখানে স্পষ্টঃতই প্রেমের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে।

কোরআনের সূরা বনী-ইসরাইলের ৩২ নং আয়াত দ্বারাও একভাবে প্রেমের বিরোধিতার প্রমাণ পাওয়া যায়ঃ

"আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা আশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ"। (সূরা বনী-ইসরাইল : ৩২) 

আবদুল্লাহ ইবনু মাসুদ (রাঃ) হতে বর্নিত, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, "হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা যেন সিয়াম পালন করে। কেননা সিয়াম হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম।" (বুখারী, মুসলিম, মিশতাক হা/৩০৮০ নিকাহ অধ্যায়) 

দেকুন উপরের হাদীসটি ভালো করে এখানে মোহাম্মাদ পুরুষতন্ত্রবাদী বিয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন, প্রেম করে বিয়ে করার প্রতি নয়।

আবার দেখুনঃ

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “লালসার দৃষ্টি চোখের ব্যভিচার, লালসার বাক্যালাপ জিহবার ব্যভিচার, কামভাবে স্পর্শ করা হাতের ব্যভিচার, এ উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের ব্যভিচার, অশ্লীল কথাবার্তা শুনা কানের ব্যভিচার, কামনা বাসনা মনের ব্যভিচার, গুপ্তাঙ্গ-যা বাস্তবে রূপদান করে কিংবা দমন করে।”(বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি) 

এখানে কিন্তু মোহাম্মাদ প্রেম করার কথাই বুঝিয়েছেন।

"আল্লাহ তোমাদের (মানব জাতির) মধ্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য (বিপরীত লিঙ্গের) জুড়ি, যাতে করে তোমরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো। এ উদ্দেশ্যে তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন হৃদ্যতা- বন্ধুতা আর দয়া-অনুগ্রহ-অনুকম্পা। এতে রয়েছে বিপুল নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্য। ”(সূরা আর-রুম : ২১) 

উপরোক্ত কোরআনের আয়াতেও রক্ষণশীল এবং পুরুষতান্ত্রিক বিয়ের পক্ষে কথা বলা হয়েছে। নারীদেরকে বোরকা পরতে বলা হয় তাদের চেহারা গোপন রাখার জন্যেই, এখানেও প্রেমের বিরোধিতার আভাস পাওয়া যায়।

লেখকঃ সোমা আজাদ (ছদ্মনাম)

ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ অসম্মান

ইসলামী পর্দার বিধান
মুসলমানরা একটি কথা বরাবরই বলেন যে, একমাত্র ইসলাম ধর্মই নারীদেরকে দিয়েছে  মানবাধিকার এবং উচ্চ মর্যাদা যা অন্য কোনো ধর্মে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আসলেই কি তাই? নাকি তাঁর সম্পূর্ণ বিপরীত? ইসলাম ধর্ম নারীদেরকে কি ধরনের অধিকার দিয়েছে, ইসলামের চোখে নাড়ি কেমন, তাদের কাজ কি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন প্রথমে কুরআন খুলে সুরা বাকারার ২২৩ নাম্বার আয়াতে একটু চোখ বুলাই।

তোমাদের স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত। তাই তোমাদের শস্যক্ষেতে যাও, যেভাবে তোমরা চাও। নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা করো। আর আল্লাহর تعالى প্রতি সাবধান! জেনে রেখো তোমরা তাঁর সামনা সামনি হতে যাচ্ছো। আর যারা পূর্ণ বিশ্বাসী হয়ে গেছে, তাদেরকে সুসংবাদ দাও। [আল-বাক্বারাহ ২২৩]


“তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। কত বড় অপমানকর কথা! ইসলাম নারীদেরকে মানুষ মনে করে না, চাষের জমি মনে করে? তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার করো। নারীরা কি পুরুষদের সম্পত্তি যে, যখন যা খুশি করবে? এই হচ্ছে ইসলামে নারীর সম্মান? ইসলাম না বড় গলায় বলে যে, এটা নারীদের অধিকার দিয়েছে? এই হচ্ছে তার নমুনা? ইসলামে নারী হচ্ছে স্বামীর শস্যক্ষেত্র। কিন্তু নারী কেনো শস্যক্ষেত হতে যাবে? তারা কেনো পুরুষের দাসী হয়ে জন্মাবে?

রাসুল (সাঃ) বলেছেন- “পুরুষেরা গন্ধ পাবে এমন উদ্দেশ্যে আতর বা সুগন্ধি মেখে কোন মহিলা যদি পুরুষদের মাঝে চলাফেরা করে তাহলে সে একজন যিনাকারী মহিলা হিসাবে গণ্য হবে” (আহমাদ ৪/৪১৮, ছহীহুল জামে হাদীছ ১০৫)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। স্কুল-কলেজ, অফিস আদালতে সব জাইগায় নারীদের অবদান। বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়। মিশতে হয় নানা-ধরনের মানুষের সাথে। এঅবস্থায় যদি তাদের শরীর দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয়, তাহলে তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টি কেমন হবে? প্রিয় নবী মোহাম্মাদ কি এটাই চেয়েছিলেন? সমাজে নারীকে হেই করা হোক। তাদের ঘরে বসিয়ে রাখা হোক। তাহলে নারীকে সমান অধিকার কিভাবে দিলো ইসলাম? আর সর্বোচ্চ সম্মানই বা দিলো কিভাবে? এটা কি তাদের শুধু গলাবাজি নয়?

প্রথমেই বলে নেই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মোহাম্মাদ ছিলেন একজন পুরুষতন্ত্রবাদী। (পুরুষতন্ত্রবাদ জিনিসটা কি তা আমি এই লেখায় উল্লেখ করছিনা অবশ্য)। তবে কোরআন ও বিভিন্ন হাদিস থেকে সুস্পষ্ট ভাবে জানা যায়, তিনি দশাধিক  বিয়ে করেছিলেন। বয়স ২৫ বছর থাকাকালীন মোহাম্মাদ তার নিজের চেয়ে ১৫ বছরের বড় এক নারীকে (খাদিজা) বিয়ে করেন। এক্ষেত্রে মোহাম্মাদের অনেক অনুসারীরা যুক্তি দেখান যে, তাদের প্রিয় নবী একজন ভালো এবং উদার মনের মানুষ ছিলেন। তিনি একজন বয়স্কা নারীকে বিয়ে করে উদার মনের পরিচয় দিয়েছিলেন।

সত্যি কি তাই? খাদিজাকে বিয়ে করে মোহাম্মাদ মোটেও উদারতার পরিচয় দেননি। তাকে খাদিজার পছন্দ হয়েছিলো আর খাদিজা মোহাম্মাদকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মোহাম্মাদ রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। মোহাম্মাদ নিজেকে নবী দাবী করার পর খাদিজা তার কথা বিশ্বাস করে মোহাম্মাদের সেই ‘কল্পিত ঈশ্বরের’ (আল্লাহর) ধর্ম কবুল করেন। মোহাম্মাদের জীবনে ইনি ছিলেন প্রথম নারী যিনি মোহাম্মাদকে ভালোবেসে তার বানানো পুরুষতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করেছিলেন। মোহাম্মাদ এরপর যতগুলো বিয়ে করেন সবগুলোর ক্ষেত্রেই উনি নিজের বানানো মতবাদ তার সঙ্গিনীর উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন।
অথচ তিনি একবারও নারীদের বাইরে ঘোরাফেরা করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেননি, যেটা ইসলাম ধর্ম আসার আগেও আরব সমাজে মোটামুটি ছিলো। এবং এটা পুরোপুরি খর্ব করে তাদের উপর আপাদমস্তক পর্দা চালু করে দেন। কিন্তু এই বোরখা-হিজাব আসলে আরবীয় বা মরুভুমির পোষাক। যা অন্যান্য দেশের পরিবেশ-আবহাওয়া এবং কালচারের সাথে যায় না। এ ধরনের পোষাকগুলো বালুঝড়, লু হাওয়া বা তীব্র রোদ থেকে বাচার জন্য আরবীয় দেশ গুলোতে পরা হতো। কিন্তু তাদের ভাষ্যমতে, ইসলাম তো পুরো পৃথিবীর জন্য। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে পৃথিবীর সকল দেশে একই আবহাওয়া অথবা ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পোষাকের নিয়ম করে দেওয়া কি উচিৎ ছিলোনা?

"হে নবীপত্নীগণ,... তোমরা নিজের গৃহে থাকবে; প্রাচীন যুগের মত নিজেদের  প্রদর্শন করে বেড়িও না।" (সূরা আহজাব এর ৩৩নং আয়াত)

উপরের আয়াত থেকে বোঝা যায়, আরব সমাজে ইসলামের আগে নারীদের যে অধিকার ও স্বাধীনতা ছিলো। যা ইসলাম আসার পরে হরণ করা হয়। নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা একই বিষয়ের কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

"বিবি আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ নারীগণ তখন যে ধরণের চালচলন এখতিয়ার করিয়াছে তাহা  যদি  রসুল (সঃ) দেখিতেন, তবে নিশ্চয় তাহাদিগকে বাইরে বাহির হইতে বাঁধা  দিতেন।" (বোখারী)

সূরা নূর এর ৩১ নম্বর আয়াত দেখা যাকঃ

"আর মুমিন মহিলাদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন স্বীয় সাজসৌন্দর্য না দেখায়, তবে যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় । তা ছাড়া তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে। এবং তারা কারো সামনে তাদের সাজসৌন্দর্য প্রকাশ করবে না এই মাহরাম আত্মীয়গণ ব্যতীত যথা স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত, বাঁদী, নারীর প্রতি স্পৃহাহীন সেবক, ওই সব বালক যারা নারীর গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়নি। তারা যেন পথচলার সময় এমন পদধ্বনি না করে যাতে তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য পদধ্বনিতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।"

নারী হাটতে গেলে পায়ে শব্দ করতে পারবে না, সুগন্ধি মাখতে পারবে না এবং করকশ কন্ঠে কথা বলতে হবে। এ ধরনের বর্বর নিয়ম মেনে চলা কোনো মেয়ের পক্ষেই অসম্ভব ব্যাপার। ইসলাম ধর্মে নারী হচ্ছে গোপন এবং একটা নিষিদ্ধ 'জিনিস'। হ্যাঁ, জিনিসই। ইসলাম নারীকে মানুষ নয় শুধুই একটা জিনিস মনে করে। যেখানে নারীরা ইসলাম ধর্মে শুধুই  একটা 'যৌনবস্তু' এবং শুধুই স্বামীর যৌনখাবার সেখানে তাদের মর্যাদা এবং মানবাধিকার দেওয়া হয়েছে এই ধরণের কথা মুমিন ধার্মিকরা এত উচু গলায় করে বলে কিভাবে, সেটাই বোধোদয় হয় না।  ইসলাম ধর্মে নারীদের কেমন চোখে দেখা হয়, শুনুন হুজুরের মুখ থেকে।


নারীর জন্ম হচ্ছে কলঙ্ক। নারীর জন্ম হয়েছে পুরুষের সেবা করার জন্য। নারী হচ্ছে বাড়ির আসবাবপত্রের মতই একটি সম্পদ। চাইলে বিক্রি করাও যাবে? নারীর হাত হারাম, পা হারাম, শুধু সেক্স আরাম, তাই তো? আর এটাই হচ্ছে ইসলাম হতে প্রাপ্ত নারীর সর্বোচ্চ সম্মান।

ইসলাম মনে করে, নারীদের আবৃত করে না রাখলে পুরুষরা তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়বে। পুরুষরা হিংস্র এবং নারী হলো ভোগ্য বস্তু। কিন্তু তাদের এই মতবাদ শুধু নারীকেই ছোট করে না বরং সকল পুরুষদেরও চরম অপমান করা হয়।

‘হে নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)! স্ত্রীগণকে বলে দিন যে তারা যেন চাদরের কিছু অংশ নিজেদের মুখের ওপর টেনে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে ফলে তাদের কেউ উত্ত্যক্ত করবেনা। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সূরা আহজাবঃ আয়াত-৫৯)

তাহলে নারীদের পোষাকের কারনেই পুরুষরা উত্যাক্ত বা ধর্ষণ করে? বিভিন্ন উন্নত সভ্য দেশে (আমেরিকা, ফ্রান্স বা অস্ট্রেলিয়া) নারীরা শার্ট-প্যান্ট পরে, স্কার্ট পরেন, ন্যুড বীচে নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ায়। কই তাদের তো কেউ ধর্ষণ করেনা! হ্যা তবে ধর্ষণ হয়। কিছু অসুস্থ মানুষিকতার মানুষই ধর্ষণ করে, যারা নারীকে বন্ধুসুলভ না হয়ে ভোগ্য পন্য বা বস্তু মনে করে। অবৈজ্ঞানিক ও যুক্তিহীন ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো মাথা ব্যাথা হলে ওষুধ না খেয়ে মাথা কেটে ফেলা।

মোহাম্মাদের নীতি অনুযায়ী নারীদেরকে তাদের মুখমণ্ডলসহ শরীর ঢাকতেই হবে কারণ তা
না হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। একে কি মানবাধিকার বলে নাকি 'নারী-অবমাননা' বা 'নারীদেরকে কারাগারে আটকিয়ে রাখা' বলে? (বোরকা বা পর্দা প্রথা একধরণের কারাগারের মত নয়?)

পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষই স্বাধীন। কাউকে আঘাত বা ক্ষতি না করে যে কোনো কাজ করার অধিকার একটা মানুষের থাকা উচিৎ। কিন্তু ইসলাম কি নারীদের তা দিয়েছে?

"যদি আমি অন্য কাউকে সিজদা করতে আদেশ দিতাম তাহলে নারীদেরই বলতাম তাদের  
স্বামীদের সিজদা করতে।" - মিশকাত

এ হাদিসের মাধ্যমে বোঝানো হয় পুরুষ হচ্ছে নারীদের দ্বিতীয় ঈশ্বর (যদি দুই ঈশ্বরের রীতি থাকতো)। তাঁর মানে, বিবাহিত নারীরা হচ্ছে পুরুষের দাসীর মত। তারা যা আদেশ করবে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে এবং অবাধ্য হলে কঠিন শাস্তি। এমনকি স্ত্রী স্বামীর কথা অমান্য করলে মার-ধোর দেওয়ার বিধানও রয়েছে ইসলামে। যা একেবারেই মানবতা বিরোধী।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নারী গোপন বস্তু সে পর্দার থেকে বের হলে তার উপর শয়তান তাকাতে থাকে। (অর্থাৎ মানুষদেরকে তার দিকে তাকানোর জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করে)। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস৩৪ নং-১১৭০)

ইসলামের এসমস্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা নারীদের অসম অধিকার প্রমাণিত হওয়ায়, আধুনিক ইসলামিক স্কলাররা ব্যাখ্যা ঘুরানোর পায়তারা শুরু করেছে। মোহাম্মাদের অনুসারীরা দাবী করেন, নারীকে শস্যক্ষেত্র বলা হয়েছে রূপক অর্থে। তাহলে রূপকটা এত ঋণাত্মক হলো কেন? কেন নারীদের নিজস্ব স্বকীয়তা পুরোপুরি বাদ দিয়ে তাদেরকে শুধুই স্বামীর যৌনখাদ্য এবং সন্তানসৃষ্টির যন্ত্র  হিসেবে রূপক বলা হলো? আসল কথা হলো পুরুষ নবীর অজ্ঞতা এবং নিজের ফয়দা উঠানোর জন্য নারীদের দমিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।

নারীদেরকে দূর্বল মনে করা পুরুষতন্ত্রবাদী ইসলামে, নারীদেরকে বাইরের সকল কাজ করতে নিষেধ। ইসলামী মতে তারা শুধু রান্না-বান্না, স্বামীর সেবা, আর রাত হলে স্বামীর শস্যখেত হয়ে যাবে। এটাই নারীদের সম্মান! এটাই সমঅধিকার। আর এ কারনে কারনে আমাদের দেশ সহ অধিকাংশ মুসলিম দেশেই নারীরা অনেক পিছিয়ে। অথচ উন্নত সভ্য দেশগুলোতে নারীরা বাইরে  স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করা সহ সামরিক বাহিনীতেও সৈনিক পদে কাজ করছে। আর মুসলমানরা দূর থেকে দেখে নাক সিটকায়। এতেও পুরুষদের যৌন উত্তেজনা উঠে যাওয়ার অজুহাত খাড়া করে।

নারীকে ঘিরে ইসলামের এসব বর্বরতাই প্রমাণ করে ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ অসম্মান।

লেখক – তুষার শামস জুয়েল

ইবলিস শয়তান সম্পর্কিত কিছু চমকপ্রদ তথ্য, যা শুনলে আপনি থ হয়ে যেতে পারেন

শিল্পীর কল্পনায় ইবলিশ শয়তান
লেখক - মোমিন শেখ
ইসলাম ধর্মে ইবলিশ নামটি খুবই পরিচিত একটি নাম। মুসলিম-অমুসলিম প্রায় সকলেই ইবলিশ শয়তানের নাম শুনেছে। ইবলিশ সম্পর্কে জানেনা এমন লোক খুব কম পাওয়া যাবে। তবে আজকে ইবলিশ সম্পর্কে একটু নিরেপক্ষ এঙ্গেল থেকে জানবো।

১। ইবলিসের পিতার নাম খবিস। খবিস ছিলেন বাদশা হামুসের পুত্র। তার আকৃতি ও স্বভাব ছিলো সিংহের ন্যায়। এবং ইবলিশের মায়ের নাম নিলবিস। নিবলিশও বাদশা হামুসের কন্যা। তার স্বভাব ছিলো নেকড়ের ন্যায় ভয়ংকর। একটি বর্ণনায় আছে, জাহান্নামের আগুনের ভেতর খবিশ ও নিবলিশের যৌনমিলনের ফলে ইবলিশের জন্ম হয়। কিন্তু কি কারনে তারা জাহান্নামে ছিলো সে কারন অজ্ঞাত।

২। জিন জাতিদের ধ্বংসের সময় ফেরেস্তারা যখন ইবলিসকে আসমানে নিয়ে যায় তখন ইবলিসের বয়স ছিল এক হাজার বছর। নিজের ইবাদত শেষে তিনি ফেরেস্তাদের উদ্যেশে ওয়াজ-নসিয়ত ও করতেন। ফেরেস্তারা তা শুনে মুগ্ধ হয়।

৩। ইবলিস ছিল সমস্ত ফেরেস্তাদের ওস্তাদ বা দলনেতা। ফেরেস্তারা জীন জাতিকে হত্যার পরও পৃথিবীতে বনে জঙ্গলে কিছু জীন থেকে গিয়েছিলো। তাদের বংশবৃদ্ধির পর আল্লাহ ইবলিশকে তাদের নবী হিসেবে প্রেরণ করে। কিন্তু কোনো জীন তাকে চ্যাটের দাম দেয় নি। অর্থাৎ তার কথা কেউ শোনেনি। :D

৪। ইবলিস নিঃসন্দেহে আল্লাহর চেয়েও জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। অনেক ফেরেস্তা ও ইবলিস আল্লাহকে মানুষ বানাতে নিষেধ করেছিল, সাবধান করেছিল। আল্লাহ সেটা না শুনে মানুষ বানিয়ে চ্যালেঞ্জে হেরে গিয়েছিল। আল্লাহ তখন রাগ করে ইবলিস আর আদম হাওয়াকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।

৫। ইবলিস ছিল জিন জাতির শেষ নবী। জিনদের দুর্ভাগ্য, তারা তাদের শেষ নবীকে পাত্তাই দেয়নি। তখন তাদের ধ্বংস করা হয়। তবে যারা ঝোপ-ঝাড়ে মশা-মাছির মত লুকিয়ে ছিলো তারা বংশবৃদ্ধি করে ফেলে। আর এ কারনেই ২০১৮ সালে এসে আমাদের জিনের ঝামেলা পোহাতে হয়। কারো ঘাড়ে লাগে, কাউকে আবার রেপও করে।

৬। ইবলিস একাধারে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিল। কিন্তু বিনিময়ে সে আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছে "শয়তান" নামক নিকৃষ্ট উপাধি।

৭। আল্লাহর একটি হুকুম অমান্য করার কারনে ইবলিস চির অভিশপ্ত শয়তান হয়ে যায়। অথচ, ইবলিশ একমাত্র ফেরেশতা যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা না করার শপথ করেছিল, এবং তার শপথ পালন করেছিল।

৮। ইবলিস মানুষের শিরা উপশিরায় প্রবেশ করে ধোঁকা দিতে পারে। এমনকি সে বান্দাদের নাকের ভেতরও অবস্থান করে। তখন আল্লাহ বা তার ফেরেস্তারাও কিছু করতে পারে না।

৯। ইবলিসের বুদ্ধি অবশ্যই আল্লাহর চেয়েও বেশী। বেহেস্ত থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পরও সে আল্লাহর চোখকে ফাঁকি দিয়ে আদম হাওয়াকে গন্দম ফল খাওয়াতে পেরেছিল। তাছাড়া পৃথিবীর ৯৯ ভাগ মানুষ তার অনুসারী। বাকি মানুষ আল্লাহর অনুসারী। কি বুঝলেন?

১০। ইবলিস বিয়েসাদি করে নাই। চিরকুমার। তার কোন পরিবার সন্তানাদি নাই। তবে সে ব্যাচেলারদের যৌন যন্ত্রনা ভালোই উপলব্ধি করে। কারণ মানুষ রেপ তো ইবলিশের ধোকায় পড়েই করে। প্রমাণঃ- কিছুদিন আগে একজন ঈমাম সাহেব ছোট্ট বাচ্চাকে রেপ করে বলেছে শয়তানের ধোকায় এ কাজ করেছি।


১১। আল্লাহ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী, রসুল পাঠিয়েও মানুষকে তার কথামত চালাতে পারেননি। এখনো পৃথিবীর ৯৯% মানুষ সঠিকভাবে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলেনা। সবাই শয়তানের কুমন্ত্রনায় চলে। কারন, মানুষ বুঝতেই পারেনা, কোনটা সহী এবং আসল সরল সোজা পথ।

১২। পৃথিবীতে ইবলিসের রাজত্ব চলে। তার বুদ্ধিতেই পৃথিবীর সব খারাপ কাজ হয়। কিন্তু সবকিছু জেনেও আল্লাহ নিরব ভুমিকা পালন করে চলেছে। এসব নাটক বাদ দিয়ে সুস্থ মস্তিস্কে অন্য কিছু ভাবা উচিৎ ছিলো।

১৩। মুসলিমদের আল্লাহর উপর ভরশা সবচেয়ে কম। এরা আল্লাহর কাছে বিচার না চেয়ে ইবলিসের অনুপ্রেরণায় নানারকম কাজ করে, ইহুদী নাসারাদের কাছে রিপোর্ট করে।

১৪। ইবলিস কেয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবে। তাকে কেউ, এমনকি আল্লাহও মারতে পারবে না।

সূত্রঃ আল কোরআন, সহী হাদিস এবং তাফসির।

ফেরাউনের লাশ এর আসল রহস্য - অলৌকিক নাকি উপকথা?

ফেরাউন বা দ্বিতীয় রামিসেস
লেখক - মোমিন শেখ
ইসলাম যে মিথ্যা একটি ধর্ম এবং কোরআন যে স্বঘোষিত নবী মোহাম্মাদের তৈরি গল্পের বই, তা প্রমানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে ফেরাউন নিয়ে সুরার আয়াত, যা ধর্মান্ধদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে ফেরাউন এর লাশের মুখরোচক গল্প বর্ণনা করা হয়েছে। যা শুনলেই মনে হবে ইসলাম আসলেই একটা অলৌকিক ধর্ম। ফেরাউন সম্পর্কে কোরআনের ২৭ টি সুরায় ৭৫টি স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।

"বনী ইসরাইলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী, অত:পর তাদের পশ্চাদ্ভাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্ধেশ্যে, এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করলো, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি কোন মাবুদ নেই তিনি ছাড়া যার ইবাদত করে বনী ইসরাঈলরা। অতএব আজকের দিনে রক্ষা করছি আমি তোমার দেহকে যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। নি:শন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।" (সূরা ইউনুস:৯২)। 


কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, মুসলিম জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করে, ফেরাউন নবী মুসাকে ধাওয়া করলে, এক সাগরের তীরে আসে। মুসার লাঠির আঘাতে সাগর শুকিয়ে রাস্তা হয়ে যায়, এবং তারা পার হয়ে ওপারে চলে যায়। ফেরাউন সেই রাস্তা দিয়ে পার হওয়ার সময় ডুবে মারা যায়। এবং আল্লাহ মানবজাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখানোর জন্য নিদর্শন হিসেবে ফেরাউনের লাশকে অক্ষত অবস্থায় রেখে দেয়, যা থাকবে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত। পরে সাগর থেকে উদ্ধার করে জাদুঘরে রাখা হয়।

বড় বড় নামের টাইটেলওয়ালা হুজুরদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে আরও জানা যায়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া মিতেরা মমি করে রাখা ফেরাউনের লাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার জন্য তা ফ্রান্সে পাঠাতে মিশর সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। ফেরাউনের লাশ সংক্রান্ত গবেষক টিমের প্রধান ছিলেন মরিস বুকাইলি। ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণ অন্য গবেষকদের উদ্দেশ্য হলেও বুকাইলি নিজে ফেরাউনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে উদগ্রীব ছিলেন। কয়েক ঘণ্টা গবেষণার পর ফেরাউনের লাশে লবণের কিছু অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়।  ফলে স্পষ্ট হয় যে সাগরে ডুবেই ফেরাউনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার লাশ সাগর থেকে উঠিয়ে এনে মমি করা হয়। এবং সাথে সাথেই মরিস বুইকালি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তাহলে এটাই কি আসল ঘটনা? মোটেই না। চলুন ফেরাউনের মমির আসল ঘটনা জেনে আসি। তবে তার আগে মরিস বুকাইলি সম্পর্কে একটু জেনে আসা যাক।

মরিস বুকাইলি ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক। ১৯৭৩ সালে, তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের পরিবারের চিকিত্সক নিযুক্ত হন.একই সাথে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের পরিবারের সদস্যরা তার রোগী ছিল। মরিস বুকাইলি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ গবেষক ছিলেন, তবে তিনি কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। - সুত্র উইকিপিডিয়া

মরিস বুইকালির নামে অভিযোগ আছে তিনি সৌদি আরব সরকারের টাকা খেয়ে একটা বই লিখেছিলেন ইসলাম সম্পর্কে। পরে সেই বই এর কড়া সমালোচনায় অন্য একটি বই বের করা হয়। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে লাশ নিয়ে গবেষনা কতটা নিখুত ছিলো। ফেরাউনের লাশে লবন পাওয়া গিয়েছিলো বলেই যে সেটা সমুদ্রে থাকবে এমন কোনো কথা নাই। প্রাচীনকালে লাশ মমি করতে হলে লবনের দ্রবনে ডুবাতে হতো।

এবার আসি আসল কথায়। 

ফেরাউন কার নাম?
ফেরাউন (Pharaoh) কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়। প্রাচীন মিশরীয় রাজাদের উপাধি ছিল ফারাও। আরবরা বলতো ফেরাউন। শুধু পুরুষ রাজা নয়, ফেরাউন শব্দটা মহিলা শাসকদের হ্মেত্রেও ব্যবহার করা হত। মিশরে ৩৩২ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন, তাদের সবাইকেই ফারাও/ফারাউন বলা হতো। কোরআনে কোনো নির্দিষ্ট ফিরাউনের নাম উল্লেখ করা হয়নি বরং উক্ত কাহিনীতে শুধুমাত্র ফেরাউন উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অজ্ঞতা। আপনি শুধুমাত্র রাজা/প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী বলতে কাকে বুঝবেন?

ফেরাউনের লাশ কি সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়?
মুসলিমদের দাবি অনুযায়ী, ফেরাউনের লাশ লোহিত সাগরের তলদেশ থেকে আবিষ্কার করা হয়েছে। এটি একটি বড় রকমের মিথ্যাচার। নদী/সাগরের তলদেশ থেকে কোনো মমিই উদ্ধার করা হয়নি। ১৮৮১ সালে যেই মমিটি পাওয়া যায়, সেই মমিটি দ্বিতীয় রামিসেসের। তাঁর মমি উদ্ধার করা হয়েছে DB320 নামে একটা সমাধিতে। সেখানে দ্বিতীয় রামিসেস ছাড়াও আরও ৫০ টি মমি উদ্ধার করা হয় একই সাথে। তবে, দ্বিতীয় রামিসেসকে প্রথমে KV7 নামে একটা সমাধিতে রাখা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে তাকে Pinudjem II এর মমির পাশে DB320 এ স্থানান্তর করা হয়।

ফেরাউন বলে যাকে দাবি করা হচ্ছে, তার পরিচয় কি?
দ্বিতীয় রামিসেস নামের এই ফেরাউনের জন্ম (প্রায়) খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩; মৃত্যু জুলাই বা আগস্ট ১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব; শাসনকাল হচ্ছে, ১২৭৯–১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব। তাকে রামিসেস দ্য গ্রেট বা মহান রামিসেস বলা হতো। তিনি ছিলেন মিশরের উনবিংশতম রাজবংশের তৃতীয় ফারাও রাজা। যারা বলে থাকে তার লাশ সাগর থেকে তোলা হয়েছে, হয় তাঁর মিথ্যা বলে বা তারা আসলেই জানেই না আসল ঘটনা। রামেসিস ২ সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

ফেরাউন কি সাগরের পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলো?
ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিমদের দাবি অনুযায়ী, ফেরাউন নবী মুসাকে ধাওয়া করতে গিয়ে সাগরের পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অথচ ফিরাউন বা দ্বিতীয় রামিসেস মৃত্যুবরণ করেছেন আর্থ্রাইটিস নামক এক রোগে। এটি প্রায়ই বৃদ্ধ বয়সের মানুষদের হতে দেখা যায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় রেমেসিস সাগরে ডুবে মরেননি। ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মাদ ওই সময় আবছা আবছা যা শুনেছিলো তাই ভুল করে কুরআনে লিখে রেখেছিলেন।

কোরআনে তো মুসা নবীর সাগর ভাগ করা আর ফেরাউনের ডুবে যাওয়ার ঘটনা আছে। কিন্তু মোহাম্মাদ এত বছর আগে ফেরাউনের লাশের ভবিষ্যৎবাণী করলো কিভাবে?
ফেরাউন আর মুসাকে নিয়ে বানানো গল্প শুধু কুরআনে না, বরং পূর্বের কয়েকটি প্রধান ধর্মগ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে অনেক আগেই, যা ছিলো বিভিন্ন জায়গার আঞ্চলিক উপকথা মাত্র। মোহাম্মাদ হিব্রু বাইবেল থেকে সরাসরি কপি-পেস্ট করে কুরআনে ঢুকিয়েছে। এবং খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেল এ কাজে সহযোগিতা করেছেন। আর নবী মুহাম্মদের সময়কালে প্রাচীন মিশরীয় মমির কথা সকলেরই জানা ছিল। তাই ফেরাউনরা মৃত্যুর পর তাদের লাশ সংরক্ষণ করে রাখে মমি করে, এটা ইসলামের নির্মাতা মুহাম্মদ অবশ্যই শুনেছেন। তাই, কোরআনে ঐ সাগর দুই ভাগ হওয়ার কিচ্ছা ও লাশ সংরক্ষনের ঘটনা জুড়ে দেয়া নিশ্চয়ই কোনো মোজেজা নয়। কুরান ও বাইবেল লিখিত হওয়ার হাজার বছর আগেই যা ঘটে গেছে, সেই জানা ঘটনার উল্লেখ থাকা কোনো কৃতিত্বের কাজ নয়।

তাহলে ফেরাউনের লাশ এতো বছর ধরে এখনও অক্ষত থাকে কিভাবে?
নবী মোহাম্মাদ রচিত কোরআনে মাত্র একজন মানুষের লাশ অক্ষত থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি মিশরের যাদুঘরগুলোতে যান, দেখবেন হাজার হাজার লাশ অক্ষত আছে এখনও। মিশর ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া অঞ্চলের আরও প্রায় ২০-২৫ টি দেশে বহু মমি আবিষ্কৃত হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে, ঐ মমিগুলো কে সংরক্ষণ করেছে ভবিষ্যৎ নিদর্শন হিসেবে? চলুন দেখি কিভাবে মমি গুলো কিভাবে সংরক্ষন করা হতো।



প্রাচীন মিশরীয়রা ছিলো অত্যান্ত বুদ্ধিমান। তারা আধুনিক সভ্যতায় অনেক অবদান রাখে। মমি তৈরি করার জন্য তারা প্রথমে লাশের পেট কেটে শরীরের বিভিন্ন পচনশীল অঙ্গ যেমন - ফুসফুস, বৃক্ক, পাকস্থলি ইত্যাদি বের করে আনতো। এসব অঙ্গ বের করার পর আবার পেট সেলাই করে দেয়া হতো। মগজ অর্ধতরল করে ফেলতো ও লোহার হুক দিয়ে টেনে বের করে আনতো। তারপর ন্যাট্রন লবণ সহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক লবণের দ্রবণে মাস তিনেক ডুবিয়ে রেখে তুলে আনা হতো। এরপর রোদে শুকানোর পালা। পরিপূর্ণভাবে লাশটা শুকিয়ে গেলে এটাকে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী করে তৈরি করা এক ধরনের ব্যান্ডেজে মুড়িয়ে ফেলা হতো। অবশেষে কাঠের বাক্সে প্যাকিং!

সুতরাং বোঝাই যায়, ইসলাম এবং কোরআন কতটা অলৌকিক। পুরোনো গল্প/উপকথা নতুন করে সাজিয়ে প্যাকিং করে বাজারজাত করার অর্থই হচ্ছে ইসলাম। আর বোকা মানুষদের মগজধোলাই করার জন্য শানে নুজুল তো আছেই।

ইসলামের গোড়ামি এবং একটি নিরীহ প্রাণীর জীবন

সাপ সম্পর্কে ইসলাম

"ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ ভয়ে সাপকে ছেড়ে দেবে যে, সে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। কেননা, যখন থেকে আমরা সাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, তখন থেকে আমরা সাপ হতে নিরাপদ নই।"
 - সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ৩৮/ সালাম হাদিস নম্বরঃ ৫১৫৮

"সাপ" শব্দটি শুনলেই অনেকে চমকে উঠে। যেনো কোনো অশুভ শক্তির প্রতীক। অনেকে তো প্রতিপক্ষকে "কালসাপ" বলে গালি দিয়েও বসে। সাপ দেখলেই, ঝাপিয়ে পড়ে মারার জন্য। আসলে সাপ কি সত্যিই আমাদের শত্রু? নাকি কোনো অন্ধবিশ্বাস এর পেছনে কলকাঠি নেড়ে আসছে?


প্রকৃতপক্ষে, সাপ একটি নিরীহ সরীসৃপ প্রাণী। কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া এরা আঘাত বা বাধা না পেলে কাউকে আক্রমণ করেনা। কোনো উপায় না পেয়ে এরা কামড় দিতে বাধ্য হয়। সাপ পরিবেশের বন্ধু, আমাদেরও বন্ধু। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে সাপের অবদান অসীম। পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এবং ইদুর সাপের প্রধান খাবার। সাপ এগুলো না খেলে আমরা হয়তো টিকতে পারতাম না। সাপের অপকারিতার চেয়ে উপকারিতা অনেক অনেক বেশি। কিন্তু তারপরও আমরা সাপ কেনো হত্যা করি?

দাদী-নানী সহ প্রায় সকলের মুখে শুনতাম, ইসলামের নবী মুহাম্মাদের হিজরতের সময় কাফেরদের হাত থেকে বাচার জন্য তাঁর সাহাবী আবুবকরকে নিয়ে এক গুহায় পলায়ন করে। এসময় একটি সাপ আবুবকরকে কামড় দেয়। এ ঘটনা বা হাদিস প্রায় সকলের জানা এবং এই ধারনা থেকেই মুখে মুখে প্রচার হয় সাপ মারা সুন্নাত। আমার আশেপাশে সবাই বিশ্বাস করে সাপ মারলে আল্লাহ খুশি হয় এবং অনেক সওয়াব দেয়। আমিও তাই জানতাম। এবং ছোটবেলা না বুঝে অনেক সাপ মেরেছি। তাহলে আমার এই না বুঝে নিরীহ প্রাণী হত্যার দায় নিবে কে?  নিশ্চই ইসলাম!

তখন অনলাইন ঘেটে সত্যতা পাওয়ার কোনো উপায় ছিলো না যে, সাপ মারলে আসলে সওয়াব হয় কিনা। কারন তখনতো মোবাইল কি সেটাই জানতাম না। অনলাইন তো অনেক দুরের কথা। চোখের সামনে অনেক সাপকে হত্যা করতে দেখেছি। গ্রাম এলাকায় সাপ মেরে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যেনো তারা প্রতিশোধ না নিতে পারে। অবুলা এই প্রাণীর ঘাড়ে এই "প্রতিশোধ" এর কলঙ্ক কে ঝুলিয়েছে, আসুন খুজে বের করি।

"হজরত ইয়াজিদ ইবনে মাওহাব (রহ.) আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—একদা আমি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর কাছে এসে বসি। এ সময় আমি তাঁর চৌকির নিচে কিছুর আওয়াজ শুনতে পাই। আমি তাকিয়ে দেখি যে একটি সাপ। তখন আমি দাঁড়ালে আবু সাইদ (রা.) জিজ্ঞাসা করেন, তোমার কী হয়েছে? তখন আমি বললাম, এখানে একটা সাপ আছে। তিনি বলেন, তুমি কী করতে চাও? তখন আমি বললাম, আমি তাকে মেরে ফেলব। তখন তিনি তাঁর বাড়ির একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বলেন, এখানে আমার চাচাতো ভাই থাকত। খন্দকের যুদ্ধের সময় সে রাসুল (সা.)-এর কাছে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায়। কেননা সে তখন নতুন বিয়ে করেছিল। তখন রাসুল (সা.) তাকে অনুমতি দেন এবং বলেন, তুমি তোমার হাতিয়ার নিয়ে যাও। সে নিজ ঘরে ফিরে তার স্ত্রীকে ঘরের দরজার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে তার (স্ত্রীর) প্রতি কলম দিয়ে ইশারা করে। তখন তার স্ত্রী বলল, তাড়াহুড়ো কোরো না। এসে দেখো কী যেন আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তখন সে ঘরে ঢুকে একটি কুিসত সাপ দেখতে পায়। সে তাকে বল্লম দিয়ে হত্যা করে এবং বল্লমে তার দেহ ফুঁড়ে বাইরে নিয়ে আসে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, এরপর কে আগে মারা গিয়েছিল—লোকটি, না সাপটি। তখন তার জাতির লোকেরা রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলেছে, আপনি দোয়া করুন, যাতে আমাদের সঙ্গী বেঁচে যায়। তখন নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করো।’ এরপর তিনি বলেন, ‘মদিনার একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই তোমরা যখন তাদের (সাপ) কাউকে দেখবে, তখন তাকে তিনবার ভীতি প্রদর্শন করবে যে আর বের হবে না, অন্যথায় মারা পড়বে। এরপর যদি সে (গর্ত থেকে) বের হয়, তখন তাকে মেরে ফেলবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৬৭)"

উপরের হাদিসটিতে বলা হয়েছে, জিনেরা সাপ হয়ে মানুষের সামনে আসে। এবং তাদের তিন বার ভয় দিলেও যদি বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে ওটা জিন না, অরিজিনাল সাপ। এবং তাকে মেরে ফেলতে হবে। তার অর্থ হচ্ছে, ইসলামে সাপ মারতে বলা হয়। ইসলামী ভাস্যমতে যেহেতু জিনেরা সাপ হয়ে আসে সেহেতু তারা প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

তাহলে পাঠক কি বুঝলেন? একটি গোড়ামি উক্তিকে কেন্দ্র করে, পরিবেশের একটি অন্যতম উপাদান এবং একটি প্রাণীকে নির্বিচারে হত্যা করে, নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

সাপ কি সত্যিই প্রতিশোধ নেয়? সাপ কি তার শত্রুকে চিনে রাখে? উত্তর - না। সাপের মস্তিস্ক খুবই ছোট। এবং এটা অবশ্যই সম্ভব।  কিন্তু তা হতে হবে কোনও সস্তার সিনেমা বা অতি খাস্তা বাংলা বা হিন্দি সিরিয়াল। সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। এবং এরা কিছুই মনে রাখতে পারেনা। তারা শুধু এটুকু জানে, বাঁচতে গেলে খেতে হয়, খেতে গেলে হত্যা করতে হয়। নিজের শক্তি সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। নিজের আকার সম্পর্কে সাপ ওয়াকিবহাল। আর রয়েছে যৌনতার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সাপ মানেই বিষধর নয়। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫০০ প্রজাতির সাপ বিষধর। আমাদের দেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ থাকলেও বিষধর সাপ রয়েছে মাত্র ২০ প্রজাতির।

আসুন আরও একটি হাদিস দেখি -

আমর ইবনু মুহাম্মদ আন নাকিদ (রহ.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘সব সাপ মেরে ফেলো।  বিশেষ করে পিঠে দুটি সাদা রেখাবিশিষ্ট ও লেজ কাটা সাপ।  কেননা এ দুটি গর্ভপাত ঘটায় এবং দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়।’ 

বর্ণনাকারী বলেন, ‘ইবনে ওমর (রা.) যে কোনো সাপ দেখলে মেরে ফেলতেন।  একদিন আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রহ.) তাকে দেখলেন যে, তিনি একটি সাপ ধাওয়া করছেন।  তখন তিনি বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বাড়িঘরে অবস্থানকারী সাপ মারতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম : ৫৬৩১)। 

বিশিষ্ট কলা বিজ্ঞানী (চায়ের দোকানের বিজ্ঞানী) ছাড়া এ উক্তি কোনো সুস্থ/শিক্ষিত মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না যে, সাপের পিঠের সাদা দাগ ও লেজ কাটা, গর্ভপাত ঘটায় আর মানুষের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়ে অন্ধ বানিয়ে দেয়। আজ পর্যন্ত এমন কোনো রোগী পৃথিবীতে দেখা গিয়েছে কিনা আমার জানা নাই। একটা নিরীহ প্রাণীর পিঠে এতো মিথ্যা অপবাদ চাপাতে তাদের কিঞ্চিৎ পরিমাণ দ্বিধাবোধ হয়নি। আর হবেই বা কেনো? তাদের মতে মানুষ পৃথিবীর সেরা জীব। দুঃখিত। মানুষ না পুরুষ। আর বাকিরা তাদের ভোগ্য বস্তু।

লেখক - মোমিন শেখ