মোটেই বিশ্বাস করতে পারছে না ধর্ম আপনাকে ঠকাচ্ছে?

পৃথিবীতে ৪০০০ ধর্ম রয়েছে
পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরছে। তার মানে হচ্ছে, আপনি যে জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন আপনাকে সহ সেই জায়গাটি প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার পূর্বে সরে যাচ্ছে। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এসেও, এই কথাটি কত জন মানুষই বা জানে? অথচ এটি বিজ্ঞানের একেবারে ব্যাসিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠিত সত্য কথা। কিন্তু আপনি যদি কোনো অল্পশিক্ষিত অথবা অশিক্ষিত মানুষের সামনে গিয়ে কথাটি বলেন তাহলে সে কষে আপনাকে একটা থাপ্পড় মেরে দিবে। থাপ্পড় খাওয়ার খুব অদ্ভুত একটি কৌশল তাই না?


তবে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ বিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়া একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে এ কথা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। তবে পৃথিবী ঘুরছে এটা যেমন ১০০ ভাগ সত্য, তেমনি আরও একটি সত্য হলো, পৃথিবীতে ৪০০০ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সবগুলো ধর্মই শতভাগ মিথ্যা, ভন্ডামি এবং সুবিধা আদায়ের সুকৌশলী মাধ্যম।

প্রথমে বলি। কেন আমরা বুঝতে পারিনা পৃথিবী ঘুরছে? কারণ আমাদের চোখের এবং জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। কোনো কিছু ঘুরছে বা চলছে সেটা বুঝতে হলে তার পাশে স্থির কোনো বস্তু থাকা চাই। পৃথিবীর আশেপাশেই স্থির কোন বস্তু নেই, যাকে দেখে বোঝা যাবে পৃথিবী ঘুরছে।

বুঝতে একটু কষ্ট হলে আরও সহজ করে বলি। ধরুন আপনি ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছেন। জানালা দিয়ে লক্ষ্য করে দেখবেন, ট্রেন যদি গাছপালা বা বনের ভেতর দিয়ে যায় তাহলে মনে হবে ট্রেন খুব দ্রুত ছুটছে। আবার যখন ফাকা মাঠের ভেতর দিয়ে যাবে তখন দূরের কোন মোবাইল টাওয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখবেন মনে হবে ট্রেন খুব ধীরে যাচ্ছে। পৃথিবীর আশেপাশে নিকটবর্তী গ্রহ নক্ষত্রগুলোও লক্ষ-কোটি কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। তাই প্রযুক্তির জ্ঞান ছাড়া পৃথিবীর ঘূর্ণন পর্যবেক্ষণ করা আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

ভাবছেন পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে ধর্মের কি সম্পর্ক? সম্পর্ক আছে। তবে আপাতত এটি একটি উদাহরণ। তবে চলুন আর একটি উদাহরণ দেখে আসি। বিশেষ করে, শরৎকালের সন্ধ্যার একটু পর বা রাতে আকাশে তাকিয়ে দেখবেন, হালকা মেঘের মতো একটি দাগ উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত হয়ে আছে। এর নাম ছায়াপথ। আমাদের পৃথিবী ও সৌরজগত এই 'মিল্কিওয়ে' ছায়াপথের ভেতরে অবস্থিত। এটি প্রায় ১ লক্ষ আলোকবর্ষ বিস্তৃত। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।
পৃথিবী থেকে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ দেখতে যেমন
রাতের আকাশে তাকালে মিল্কিওয়ে ছায়াপথকে ঠিক এমন দেখায়। কিন্তু আসলেই কি ছায়াপথ দেখতে এমন? প্রকৃতপক্ষে ছায়াপথ দেখতে মোটেও এরকম না। আগেই বলেছি আমাদের চোখের সীমাবদ্ধতা আছে। সম্পূর্ণ ছায়াপথটি এতই বড় যে, আমাদের দৃষ্টিসীমায় ধরা পড়ে না। তাই আমরা এর ক্ষুদ্রতম একটি অংশ দেখি। ছায়াপথ কে বাইরে থেকে দেখলে অনেকটা মশার কয়েলের মত লাগবে। এবার নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।
বাইরে থেকে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ
এবার আসি কাজের কথায়। ঘরের বাহ্যিক অবস্থা যেমন ভেতর থেকে বোঝা সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি ধর্মের ভেতরে থেকে ধর্মের আসল রূপ বোঝা সম্ভব নয়। সেটা বুঝতে হলে একটু বাইরে থেকে তীক্ষ্ণভাবে দৃষ্টিপাত করতে হবে।

আমরা যে সমাজে বসবাস করি, ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠা হয়। জন্মের শুরু থেকেই যেমন আমাদের পিতা, মাতা আত্নীয় স্বজনদের চিনি দেয়া হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আরো একজন ব্যক্তিকে চিনিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি হচ্ছেন ঈশ্বর। তবে আমরা বাবাকে দেখেছি, মাকে দেখেছি ভাইকে দেখেছি, বোনকে দেখেছি। কিন্তু ঈশ্বরকে কি দেখেছি? না তো, দেখিনি। তিনি অদৃশ্য। অনুভব করেছি? না। কোথাও তার কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পেয়েছি? Absolutely না। শুধু আমরা একা নয়। আমাদের বাবারাও দেখিনি, তাদের বাবারাও দেখিনি, এবং তাদের বাবারাও দেখিনি। তাহলে দেখেছে টা কে?

আজ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব কেউ খুঁজে না পেলেও আমরা মন প্রাণ দিয়ে তাকে ভক্তি করি। বিপদের সময় তাকে ডাকি, ভয় পেলে তাকে স্মরণ করি। এই অস্তিত্বহীন সত্তাকে দেখতে বা বুঝতে না পারলেও মনের ভেতর তার জন্য একটা বিশেষ স্থান রেখে দিয়েছি। সে যেন চিরচেনা আপন কেউ।


পথে-ঘাটে শহরে-বন্দরে সব জায়গায় ঈশ্বরের গুনোগান শোনা যায়। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহকদের সুনাম অহরহ। হাজার হাজার বই পুস্তক লেখা হয়েছে তাদের নামে এবং সুনামে। পৃথিবীতে শত কোটি ভক্ত আছে তাদের। যারা ঈশ্বর এবং তাঁর প্রেরিত বার্তাবাহক দের জন্য জীবনও দিতে পারে। পৃথিবীতে প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে মাহফিল, সভা ও সমাবেশের আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সুনাম ও গুণগান করা হয়। অথচ তাকে কোনো দিন দেখিনি।

চারপাশে যখন এতো পজিটিভ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ যদি এসে বলে ঈশ্বর নেই। ধর্মগুলো মানুষেরই সৃষ্টি। কিছু মানুষ নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য নিজেকে ঈশ্বরের প্রেরিত দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা ছিলো খুনি। সম্পদ এবং নারীলোভী ইত্যাদি। শুনে রীতিমত হৃদয়ে ধাক্কা লাগবে। মনে হতেই পারে, তরোয়াল টা নিয়ে এসে তার মুন্ডুটা দুভাগ করে দিতে। এবং অনেকে সেটা করেও। তবে ঈশ্বরকে আমরা কেউই দেখিনি।

শুনতে তেতো হলেও সত্য এই যে, আমাদের ভেতর ৮০ ভাগ ধার্মিকই নিজের ধর্ম গ্রন্থের পাতা উল্টিয়েও দেখেনি ধর্মগ্রন্থে কি লেখা আছে। ধর্মগ্রন্থের ভাষা ভিন্ন হওয়ায়, অনেকে পড়ে কিন্তু বুঝে না। বাকি ১০ ভাগ? এরাই হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ী। এরা পড়ে এবং বোঝেও। দুঃখ, এটাই তাদের রুটি-রুজি।  এই ১০ ভাগ ধার্মিকদের কথায় বাকি ৯০ ভাগ উঠে আর বসে।

গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন মাজারে হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগী আসে কাঠালের পাতা পড়া, চিনি পড়া, ডিম পড়া ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ সারাতে। গুজব শুনে, বাঁশের কঞ্চির পানি খেয়ে রোগ ভালো করার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভোর রাতে উঠেছিলো একবার। কিছুদিন আগেও উত্তরবঙ্গে একটা গুজব উঠেছিলো, বিলের পচা কাদায় গোসল করলে নাইক সব রোগ সেরে যাচ্ছে। ভারতে গরুর মুত্র খেতে শোনা যায় প্রায়ই। তারা এগুলোকে মনে প্রাণে সত্য ভেবেই পালন করে।

কি হলো? বোরিং ফিল করছেন? মনে হচ্ছে এসব কথা শুনিয়ে লাভ কি, এসব তো ভন্ডামি। হ্যা, এগুলো আপনার কাছে মনে হচ্ছে পুরাই ফালুতু এবং ভন্ডামি। তবে জানেন কি আপনার প্রিয় ধর্ম আপনার কাছে যেমন সত্য, তারা এগুলোকে ঠিক একই ভাবে সত্য মনে করেই এ ধরনের পাগলামি করে যাচ্ছে? আপনি যদি একজন মুসলিম হয়ে থাকেন এবং হিন্দুদের গো-মুত্র খাওয়া যেমন আপনার কাছে ভন্ডামি মনে হয়, আপনার ধর্ম বিশ্বাসও, অনেকের কাছে ভন্ডামি মনে হয়!

ধর্মাবলম্বীরা প্রতিদিন ধর্মের পেছনে অসংখ্য সময় ব্যয় করে, ধর্মের বহু অপ্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলে, অথচ ধর্মের উৎপত্তি এবং তার উদ্যেশ্য খোজার চেস্টাও কোনো দিন করেনি, এমন লোকের সংখ্যা অগণিত।
বন্য প্রানীর বিবর্তন থেকে ধীরে ধীরে মানুষের আবির্ভাব
পৃথিবীতে মানুষ আবির্ভাবের ইতিহাস
পৃথিবীর বয়স ৫০০ কোটি বছর। পৃথিবীতে আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে জীবনের উদ্ভব। ফসিল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে আজ থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকা মহাদেশে অস্ট্রালোপিথেকাস জাতীয় প্রাণীরা বাস করত। এবং আজ থেকে ১৫ লক্ষ বছর আগে হোমো ইরেক্টাস (“দন্ডায়মান মানব”) এর আবির্ভাব ঘটে। হোমোস্যাপিয়েন্স বা মানুষ কমপক্ষে ২ লক্ষ বছর আগে এই পৃথিবীতে এসেছে।

ঐতিহাসিকদের তথ্য অনুযায়ী ধর্মের ইতিহাস
মানুষের আবির্ভাব আজ থেকে ২ লক্ষ বছর আগে হলেও ধর্মের ইতিহাস কিন্তু সে তুলনায় খুবই নগন্য। আজ থেকে ১০ হাজার বছর বা তার আগে মানুষের চিন্তা, ভাবনার উন্নতি হতে থাকে। এর আগেই তারা ভাষা আবিষ্কার করে ফেলে। সেসময় মানুষ ‘প্রাকৃতিক পরিবেশে’ বসবাস করতো। আদিম কাল থেকে তারা নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতো। ঐ সমস্ত দুর্যোগ থেকে আত্মরক্ষার জন্য নানাবিধ প্রাকৃতিক শক্তির কাছে প্রকাশ্যে বিনয়ের সাথে আত্মসমর্পন করে কান্নাকাটি করতো এবং খুশি করার জন্য পূজো ও দিতো। এভাবে ভয়ের কারণে আত্মরক্ষার তাগিদে শুরু হয় প্রকৃতিপূজা বা ধর্মীয় আচরণ। সেখান থেকেই মুলত ধর্মের সৃষ্টি। আজ থেকে ৬ হাজার বা ৭ হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীতে ধর্মের আবির্ভাব ঘটে।
সভ্যতার দিকে ধাবিত হচ্ছে মানুষ
কোনো কিছু যেমন একবারে পরিপূর্ণ হয়না, ধর্মও ঠিক তেমন। সময়ের ধাপে ধাপে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামুলকভাবে কিছু কিছু বুদ্ধিমান লোকের আর্বিভাব হয়। তারা নিজেকে নেতা বা অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা মুরব্বী বা অভিভাবক হিসেবে নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে নানাবিধ দাবি খাটাতো। এছাড়া বিপদ আপদ না আসার জন্য নানাবিদ তন্ত্র মন্ত্র, পূজো প্রার্থণা এসব ছিল তাদের মৌলিক দায়িত্ব। এভাবে যুগ ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এরা হয়ে উঠলো এক শ্রেণীর অঘোষিত “সমাজ সর্দার”। কোনো দেবতার দ্বারা সাহায্য লাভ কিংবা কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে কখন কি ভাবে মোকাবেলা করতে হবে তার দায়ভাগ তাদের উপর গুরু দায়িত্ব হিসেব অর্পিত হলো।

বিনিময়ে সেই ব্যক্তি সমাজের নানাবিধ সুযোগ সুবিধাও হাতিয়ে নিতে থাকলো। তাদের হাতে থাকতো উপাসনালয়ের কর্তৃত্ব, অদৃশ্য ইশ্বর কিংবা দেবতাদের কাছে নিজেদের ভুল ত্রুটির কৈফিয়ত দিতো। এভাবে গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত (কিংবা স্বঘোষিত) ইশ্বরের প্রতিনিধিরা কালের স্রোতে নিজেদেরকে সমাজসেবী হিসেবে করেছে প্রতিষ্ঠিত। প্রথমে তা করা হয়েছে নিজ এলাকায়, নিজের সমাজে। যেখানে সামাজিক অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলায় ছিল ভরপুর। এই সমাজ সেবা করতে গিয়ে পৃথিবীর মানুষের মাথায় নানাবিধ আইন কানুন বাধ্যতামুলক ভাবে বেধে দেয়া হয়। ধীরে ধীরে এভাবেই সৃষ্টি হয় ধর্মের এবং ধর্ম প্রচারকদের।

ধর্মের ইতিহাস থেকে জানা যায় পৃথিবীতে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশী ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল। এতদ্ব্যতীত ভারতে এবং ইউরোপের গ্রীস ও ইতালীতে ধর্মের প্রবল প্রতাপ ছিল। ধারণাগত মিল থেকে ধর্মতাত্ত্বিকগণ ধারণা করেন যে, একেশ্বরবাদী বা ইহুদি ধর্মের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে খ্রিস্ট ধর্ম, ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি ইব্রাহিমীয় ধর্ম।

বিজ্ঞান এবং ধর্ম
আধুনিক বিজ্ঞান এবং ধর্মগুলোর মধ্যে সাংঘর্ষিকতায় পূর্ণ। অধিকাংশ ধর্ম মতে, ঈশ্বর এক জোড়া মানুষ পৃথিবীতে ফেলে দেয়, সেখান থেকে সন্তান জন্ম দিতে দিতে আজকের এই অবস্থা। তবে বিজ্ঞান বলে, পৃথিবীতে এক জোড়া মানুষ একবারে আসেনি। কোটি কোটি বছর ধরে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বিভিন্ন প্রাণীর বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের মানুষ সৃস্টি হয়েছে। এবং ভাষা, পোষাক, আবাস একবারে তৈরি হয়নি। এবং মানুষ এখনও বিবর্তিত হচ্ছে।

বিভিন্ন ধর্মে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে আকাশ ও পৃথিবী সৃস্টি হয়েছে মাত্র সাত দিনে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান বলে পুরো মহাবিশ্ব তৈরি হতে (আজকের অবস্থানে আসতে) ১৩.৭৫ বিলিয়ন লেগেছে। এবং আকাশ বলতে আদতে কিছুই নেই। উপরের দিকে তাকালে আমরা যে নীল আকাশ দেখতে পাই সেটা হচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভ্রম।

এছাড়াও ধর্মের হাজারও কুসংস্কার, বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞা, আদেশ, নির্দেশ মানুষকে বিজ্ঞান চর্চায় এবং স্বাভাবিক বা মুক্ত জীবনযাপনে বাধা দেয়। শুধু বিজ্ঞান নয়, এটি সামাজিক ভাবেও অত্যান্ত ক্ষতিকর। ধর্ম একজন নারীকে পন্য হিসেবে তুলে ধরে। পৃথিবীতে জঙ্গিবাদের মুল কারণও ধর্ম। (সংক্ষেপিত)

- লেখকঃ মোমিন শেখ

তথ্যসুত্র
https://bn.wikipedia.org/wiki/বিশ্বের_ইতিহাস
https://bn.wikipedia.org/wiki/মানুষ
https://bn.wikipedia.org/wiki/মহাবিস্ফোরণ_তত্ত্ব

দুর্গা প্রতিমা তৈরীতে পতিতালয়ের মাটি এবং পৌরাণিক এক পতিতার জয়গাঁথা

দেবী দুর্গা
বাংলায় শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে। শাস্ত্র বলে দুর্গতিনাশিনী দুর্গাদেবীর মায়ের আদল ফুটিয়ে তুলতে কয়েকটি জিনিষ আবশ্যক৷ যেমন, গোমূত্র, গোবর, ধানের শিষ, পবিত্র গঙ্গার জল আর নিষিদ্ধপল্লীর মাটির মিশ্রণে তৈরি হবে দেবীমূর্তি৷ আর এই কারণেই সেই পুরাকাল থেকে আজও দেবীর মূর্তি তৈরিতে দরকার হয় বেশ্যালয়ের মাটি ৷ কিন্তু কেন এই রীতি ? সমাজ যাঁদের দূরে ঠেলে দিয়েছে, অবজ্ঞা আর বঞ্চনার পাহাড় জমে উঠেছে যাঁদের দেওয়াল বেয়ে, ঘৃণা আর নোংরা দৃষ্টি ছাড়া যাঁদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটেনি, তাঁদের ঘরের মাটিই আবার দেবীমূর্তির অপরিহার্য অঙ্গ৷ কিন্তু কেন?
‘যেখানে উড়ে রুদ্রের চিঠি, বোদলেয়ারের মেঘদল
যেখানে বিসর্জিত নারী-পুরুষের অর্জিত বোধ সকল
যে ঘর অনাহূতেরে ডাকে আহূতের সুরে-স্বরে
পতিতালয়ের প্রবেশদোরেই শুদ্ধতম মাটি আছে পড়ে"!

দুর্গা পূজার মহাস্নানে ‘বেশ্যাদ্বারের মাটি’ লাগে ৷ সংস্কৃত শব্দের অর্থ না জানার ফলে নাকি বিভ্রান্তিতে পড়ছে অনেকে৷

“অভিষিক্তা ভবেৎ বেশ্যা ন বেশ্যা কুলটা প্রিয়ে”। -মহানির্ববান তন্ত্র৷

“পূর্ণাভিষেকো দেবেশি দশ বিদ্যাবিধোস্মৃত” দশ মহাবিদ্যার উপাসকগণই পূর্ণাভিষেকে অধিকারি অন্যে নহে৷—কুলার্ণব তন্ত্র ৷

দীক্ষা পুরশ্চরণঃ পূর্ণাভিষেক মন্ত্রচৈতন্য হওয়ার ফলে যিনি দেবত্বে উন্নীত হয়েছেন, এরকম অভিষিক্তাকে বেশ্যা বলা হয়েছে, অার উনারা যেখানে বাস করেন সেই দ্বারের মাটিকে বলা হয়েছে পবিত্র মাটি৷

একটা পুরুষ যখন পতিতার বাড়ি গিয়ে অবৈধ যৌনাচার করে তখন ঐ পুরুষের জীবনের সমস্ত পূণ্য পতিতার বাড়ির মাটিতে পতিত হয় বা পূণ্য তাকে ত্যাগ করে, বিনিময়ে ঐ পুরুষ পতিতার ঘর থেকে নিয়ে আসে তাঁর সমস্ত পাপ। এরূপ বহু পুরুষের অর্জিত সমস্ত পূণ্য ত্যাগে পতিতাদের ঘরের মাটি পূণ্যময় হয় বলে মনে করা হয়, তাই পতিতার ঘরের পবিত্র মাটি প্রয়োজন হয় দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরীতে।

দেবী দুর্গা কে? দেবদ্রোহী মহিষাসুর নামে অসুরকে ব্রহ্মা বর দিয়ে ফেলেছিলেন যে, কোনও পুরুষ তাকে বধ করতে পারবে না। এরপর সে মনের আনন্দে দেবতাদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার শুরু করলে ভোগবাদী বৈদিক দেবতারা অবশেষে স্বর্গচ্যুত হন। উত্ত্যক্ত, ব্যতিব্যস্ত দেবতারা দেখলেন, অতিসত্বর এর একটা হেস্তনেস্ত করা দরকার। তারা নিজেরা কেউ এই দানবের সঙ্গে লড়তে পারবেন না, তার বদলে প্রবল শক্তিশালিনী এক নারীকে সৃষ্টি করতে হবে। তখন অনেকেই তাদের তেজের অংশ দান করলেন।

শিবের তেজে হল মুখ, বিষ্ণুর তেজে দশটি বাহু, চন্দ্রের তেজে দুই স্তন, ইন্দ্রের তেজে কোমর, বরুণের তেজে জঙ্ঘা ও উরু, পৃথিবীর তেজে নিতম্ব, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল, বসুগণের তেজে আঙুল, কুবেরের তেজে নাক, প্রজাপতির তেজে দাঁত, সন্ধ্যার তেজে দুই ভুরু ও পবনের তেজে দুই কান। এই গঠন প্রক্রিয়ায় বেশ একটা কৌতূহলী দিকও আছে। দেবতারা পরে তাঁদের নিজেদের অস্ত্র এই দেবীকে দান করেন, তাই দেবী একাধিক অস্ত্রে সজ্জিত।

তবে কি সকল দেবতা এই প্রতারক এবং ছলনাময়ী দুর্গা দেবী তৈরীতে কোন আর্য নারীর সাথে পর্যায়ক্রমে যৌন সংশ্রবে মিলিত হয়ে তাকে তেজ প্রদান করেছিলেন, সোজা বাংলায় একাধিক পুরুষের সাথে মিলিত হলে যাকে আমরা পতিতা বা বেশ্যা বলি? দুর্গাপুজার আড়ালে কি এমনই কোন ছলনাময়ী প্রতারক দেবী পতিতারই পুজো করা হচ্ছে? আর অসুরদের দেখা হচ্ছে অত্যাচারী, দেবদ্রোহী, বেদবিরোধী অযাজ্ঞিক অধার্মিক হিসাবে।

শতপথ ব্রাহ্মণ বলছে “যজ্ঞেন বৈ দেবাঃ” যারা যজ্ঞ করতেন তারা দেব। দেবতা কথার অর্থ বিদ্বান ব্যক্তি, বিদ্যাংসো হি দেবাঃ(শতপথ ব্রাহ্মণ), বিদ্বান তিন প্রকার দেব,ঋষি,পিতৃ।

অসুর শব্দের অর্থ বীর, যোদ্ধা, জাজ্বল্যমান। অসুর কোন নিন্দা সূচক শব্দ না ঋগ্বেদে বহুবার প্রশংসা সূচক অভিবাদন স্বরূপ ইন্দ্র, সূর্য, বরুণ কে অসুর সম্ভাষণ করা হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে যে দেবাসুরের সংগ্রামের কথা পাই, সেটা বাস্তবে শক্তির সঙ্গে প্রজ্ঞার লড়াই ছিল, যেখানে বিদ্বানরা জয় লাভ করে ছিল, আর বীর যোদ্ধা অসুরেরা পরাজিত হয়ে আর্য্যবর্ত ত্যাগ করে পশ্চিমে আ্যসিরিয় সভ্যতা স্থাপন করেছিল। কিন্তু আজ ইতিহাস বিকৃতির ফলে দেবতা বলতে অপার্থিব মহান শক্তি ও অসুর বলতে অদ্ভুত অত্যাচারী কিছু অমানবের প্রতিচ্ছবি বোঝায়।

আসলে দেব বা অসুররা আমাদের মতই রক্তমাংসের মানুষ। এরা দুইদল ভারতেরই দুইটি সুপ্রাচীন আর্য জাতি। তবে একদল যাজ্ঞিক, আর অন্যদল যজ্ঞ রহিত। বেদে ১০৫ বার অসুর শব্দের উল্লেখ আছে। তার মধ্যে ৯০ বারই প্রশংসা সূচক। যেমন অসুরঃ অসু ক্ষেপণে শত্রুণ্ ইত্যসুরঃ। যারা শত্রুদের উপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে পটু তারা অসুর। এবং অসুন্ প্রাণান রাতি দদাতি ইত্যসুরঃ। যারা প্রাণদান করে, যাদের মধ্যে দুর্দমনীয় প্রাণশক্তির প্রকাশ দেখা যায়, সেই সমস্ত শক্তিশালী বীররাই অসুরপদবাচ্য।

ড: নীহার রঞ্জন রায় তাঁর ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস ’ গ্রন্থেও এ কথা স্বীকার করেছেন । বৈদিক যুগে আর্যরা বিহারের মিথিলা পর্যন্ত দখল করলেও শেষ পর্যন্ত তারা পূর্ব-ভারতের আলপাইন মানবগোষ্ঠীর অসুর জাতির কাছে বারবার পরাজিত হয়ে পূর্বভারত দখলের যাবতীয় স্বপ্ন একসময় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ এই অসুর জাতির যেমন ছিল এক বিশাল হস্তিবাহিনী তেমনি ছিল তাদের শক্তিশালী এক রাজতন্ত্রও। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে(১/১৪) এই অসুর জাতির রাজতন্ত্রের মধ্যে একমাত্র প্রাচ্যদেশেই এই একরাট বা সম্রাট ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। যেহেতু অসুর রাজতন্ত্রের সর্বাধিনায়ককে সম্রাট বলা হত সেহেতু বৌদ্ধ যুগে অসুর জাতির বংশধর হিসাবে সম্ভবত: মৌর্য শাসকদের সর্বাধিনায়কের উপাধিও ছিল সম্রাট। তবে সুচতুর নর্ডিক আর্য ব্রাহ্মণেরা পরাজিত আলপাইন অসুর জাতির লোকদের দেবতার ভয়ে ভীত করে চিরদিনের মত দাবিয়ে রাখতে তাদেরই সৃষ্ট কাল্পনিক দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটিয়ে এই অসুরদের রাজত্ব বঙ্গদেশে ব্যাপকভাবে দুর্গাপূজার প্রচলন করেন; যা ভারতবর্ষের আর কোন রাজ্যে তেমন দেখা যায় না। কাল্পনিক এই দুর্গার আসরে অসুরদের এমন ভাবে তারা অত্যাচারী এবং অশুভ শক্তির ধারক ও বাহকরূপে প্রকাশ করেন যাতে ভবিষ্যতে কোন বাঙালি যেন ঘৃণা ভরে কোনদিনও জানতে না চান যে আসলে তারাই হল আলপাইন অসুর জাতির মানুষ।

এবার ফিরে আসা যাক পতিতা প্রসঙ্গে, পতিতাদের কদর এবং উদাহরন হিন্দু পুরাণে ভুঁড়ি-ভুঁড়ি! তাছাড়া হিন্দু পুরাণে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে যে পতিতাদের ক্ষমতা নাকি দেবতা বা বৈদিক বিদ্বান নেতাদের থেকেও বেশী। কালীদাস রচিত শকুন্তলায় আছে- বিশ্বামিত্র ঋষি ইন্দ্রত্ব লাভের আশায় তপস্যা করছিল। তখন ইন্দ্র ভীত হয়ে মেনকাকে পাঠায় বিশ্বামিত্রের তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য। মেনকা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে বিশ্বামিত্রের সামনে যায়, ফলে বিশ্বামিত্র তপস্যা ভুলে মেনকার সাথে যৌন-সংশ্রবে মিলিত হয়। এই মিলনের ফলে শকুন্তলার জন্ম হয়। দেবরাজ ইন্দ্র সর্বশক্তিমান হয়েও যা করতে পারলেন না, মেনকা সামান্য নারী হয়ে তা অবলীলায় করে ফেলল!

তেমনি এই দুর্গা চরিত্র, নোংরা ছলনার দ্বারা বীর মহিষাসুরকে নিরস্ত্র করে হত্যা করে। ঋগবেদের ১.১০৮.৮ শ্লোক অনুযায়ী জানা যায়, আর্য গোষ্ঠী গুলির মধ্যে পাঁচটি মূল গোষ্ঠীর, যেমন-পুরু, যদু, তরবাসা, অনু এবং দ্রুহয়ু- এর সঙ্গে অনার্য বীর রাজা মহিষাসুরের বারবার যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে এই আর্য গোষ্ঠী গুলি বেশ কয়েকবার পরাজিত হলে তারা একত্রে বসে পরামর্শ করে নৃত্য -গীতে পারদর্শী সুন্দরি কামিনী-নারী দুর্গাকে মহিষাসুরের কাছে পাঠায়। অসুরজাতি নারীকে আক্রমণ করত না। রাজা মহিষাসুর যখন অস্ত্র ত্যাগ করে শয়ন কক্ষে যান, ঠিক তখন-ই নিভৃত ঘরে ছলনাময়ী-কামিনী দুর্গা তাকে হত্যা করে আর্যদের বিজয় গাঁথা রচনা করে। ছলনাময়ী নারী দুর্গা অসুরদের বীরসম্রাট মহিষাসুরের বুকে ত্রিশূল দিয়ে বিঁধে, বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার অনুগত অন্যান্য হিংস্র পশুরা তাকে ছিঁড়ে খাচ্ছে। ব্রাহ্মন্যবাদী সংস্কৃতি বৈদিক বামুনেরা দলিত ও অন্যান্য পশ্চাদপদ শ্রেনীর মানুষের উপর ছলে-বলে-কলে-কৌশলে চাপিয়ে দিয়েছে এবং মূলনিবাসীদের সংস্কৃতিকে নৃশংসভাবে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে অনেকেই নিজেদের উৎস ও অতীত ইতিহাস ভুলে গিয়ে আজ বৈদিক বেশ্যা দুর্গাকে মাতৃজ্ঞানে বন্দনা করেন।

অথচ হিন্দু সমাজেও এই বেশ্যাদের বেশ কদর ছিলো বরাবরই। কারণ ঐ যে, দেবতাদের চেয়েও পতিতার শক্তি বেশী। উল্লেখ্য ব্রিটিশ আমলে পতিতাদের জন্য এই কলকাতা শহর কিন্তু ছিল খুব বিখ্যাত। ব্রিটিশদের হস্তগত করতে পতিতার প্রলোভন দেয়া হয়, তাই বাংলায় পুনরায় পতিতাদেবী দুর্গা পুজোর প্রচলন শুরু হয় এই ব্রিটিশ আমলেই। বহিরাগত মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে কোনক্রমে পেরে না ওঠা অবস্থাপন্ন হিন্দু জমিদারগণ অবশেষে পতিতাদেবীর পুজোর আয়োজন অন্তত তাই প্রমাণ করে। বিখ্যাত(!) পতিতালয় সোনাগাছি-তো এই শহর কলকাতাতেই অবস্থিত। এ সম্পর্কে ইতিহাস বলে-
"কলকাতায় খুবই রমরমা ছিল বেশ্যাদের জগৎ। গৃহস্থের বাড়ির পাশে বেশ্যা, ছেলেদের পাঠশালার পাশে বেশ্যা, চিকিৎসালয়ের পাশে বেশ্যা, মন্দিরের পাশে বেশ্যা"। [তথ্যসুত্র: বিনয় ঘোষ, কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত,১৯৯৯, পৃ. ৩০২-০৩]

ইবলিস শয়তান সম্পর্কিত কিছু চমকপ্রদ তথ্য, যা শুনলে আপনি থ হয়ে যেতে পারেন

শিল্পীর কল্পনায় ইবলিশ শয়তান
লেখক - মোমিন শেখ
ইসলাম ধর্মে ইবলিশ নামটি খুবই পরিচিত একটি নাম। মুসলিম-অমুসলিম প্রায় সকলেই ইবলিশ শয়তানের নাম শুনেছে। ইবলিশ সম্পর্কে জানেনা এমন লোক খুব কম পাওয়া যাবে। তবে আজকে ইবলিশ সম্পর্কে একটু নিরেপক্ষ এঙ্গেল থেকে জানবো।

১। ইবলিসের পিতার নাম খবিস। খবিস ছিলেন বাদশা হামুসের পুত্র। তার আকৃতি ও স্বভাব ছিলো সিংহের ন্যায়। এবং ইবলিশের মায়ের নাম নিলবিস। নিবলিশও বাদশা হামুসের কন্যা। তার স্বভাব ছিলো নেকড়ের ন্যায় ভয়ংকর। একটি বর্ণনায় আছে, জাহান্নামের আগুনের ভেতর খবিশ ও নিবলিশের যৌনমিলনের ফলে ইবলিশের জন্ম হয়। কিন্তু কি কারনে তারা জাহান্নামে ছিলো সে কারন অজ্ঞাত।

২। জিন জাতিদের ধ্বংসের সময় ফেরেস্তারা যখন ইবলিসকে আসমানে নিয়ে যায় তখন ইবলিসের বয়স ছিল এক হাজার বছর। নিজের ইবাদত শেষে তিনি ফেরেস্তাদের উদ্যেশে ওয়াজ-নসিয়ত ও করতেন। ফেরেস্তারা তা শুনে মুগ্ধ হয়।

৩। ইবলিস ছিল সমস্ত ফেরেস্তাদের ওস্তাদ বা দলনেতা। ফেরেস্তারা জীন জাতিকে হত্যার পরও পৃথিবীতে বনে জঙ্গলে কিছু জীন থেকে গিয়েছিলো। তাদের বংশবৃদ্ধির পর আল্লাহ ইবলিশকে তাদের নবী হিসেবে প্রেরণ করে। কিন্তু কোনো জীন তাকে চ্যাটের দাম দেয় নি। অর্থাৎ তার কথা কেউ শোনেনি। :D

৪। ইবলিস নিঃসন্দেহে আল্লাহর চেয়েও জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। অনেক ফেরেস্তা ও ইবলিস আল্লাহকে মানুষ বানাতে নিষেধ করেছিল, সাবধান করেছিল। আল্লাহ সেটা না শুনে মানুষ বানিয়ে চ্যালেঞ্জে হেরে গিয়েছিল। আল্লাহ তখন রাগ করে ইবলিস আর আদম হাওয়াকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।

৫। ইবলিস ছিল জিন জাতির শেষ নবী। জিনদের দুর্ভাগ্য, তারা তাদের শেষ নবীকে পাত্তাই দেয়নি। তখন তাদের ধ্বংস করা হয়। তবে যারা ঝোপ-ঝাড়ে মশা-মাছির মত লুকিয়ে ছিলো তারা বংশবৃদ্ধি করে ফেলে। আর এ কারনেই ২০১৮ সালে এসে আমাদের জিনের ঝামেলা পোহাতে হয়। কারো ঘাড়ে লাগে, কাউকে আবার রেপও করে।

৬। ইবলিস একাধারে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিল। কিন্তু বিনিময়ে সে আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছে "শয়তান" নামক নিকৃষ্ট উপাধি।

৭। আল্লাহর একটি হুকুম অমান্য করার কারনে ইবলিস চির অভিশপ্ত শয়তান হয়ে যায়। অথচ, ইবলিশ একমাত্র ফেরেশতা যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা না করার শপথ করেছিল, এবং তার শপথ পালন করেছিল।

৮। ইবলিস মানুষের শিরা উপশিরায় প্রবেশ করে ধোঁকা দিতে পারে। এমনকি সে বান্দাদের নাকের ভেতরও অবস্থান করে। তখন আল্লাহ বা তার ফেরেস্তারাও কিছু করতে পারে না।

৯। ইবলিসের বুদ্ধি অবশ্যই আল্লাহর চেয়েও বেশী। বেহেস্ত থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পরও সে আল্লাহর চোখকে ফাঁকি দিয়ে আদম হাওয়াকে গন্দম ফল খাওয়াতে পেরেছিল। তাছাড়া পৃথিবীর ৯৯ ভাগ মানুষ তার অনুসারী। বাকি মানুষ আল্লাহর অনুসারী। কি বুঝলেন?

১০। ইবলিস বিয়েসাদি করে নাই। চিরকুমার। তার কোন পরিবার সন্তানাদি নাই। তবে সে ব্যাচেলারদের যৌন যন্ত্রনা ভালোই উপলব্ধি করে। কারণ মানুষ রেপ তো ইবলিশের ধোকায় পড়েই করে। প্রমাণঃ- কিছুদিন আগে একজন ঈমাম সাহেব ছোট্ট বাচ্চাকে রেপ করে বলেছে শয়তানের ধোকায় এ কাজ করেছি।


১১। আল্লাহ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী, রসুল পাঠিয়েও মানুষকে তার কথামত চালাতে পারেননি। এখনো পৃথিবীর ৯৯% মানুষ সঠিকভাবে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলেনা। সবাই শয়তানের কুমন্ত্রনায় চলে। কারন, মানুষ বুঝতেই পারেনা, কোনটা সহী এবং আসল সরল সোজা পথ।

১২। পৃথিবীতে ইবলিসের রাজত্ব চলে। তার বুদ্ধিতেই পৃথিবীর সব খারাপ কাজ হয়। কিন্তু সবকিছু জেনেও আল্লাহ নিরব ভুমিকা পালন করে চলেছে। এসব নাটক বাদ দিয়ে সুস্থ মস্তিস্কে অন্য কিছু ভাবা উচিৎ ছিলো।

১৩। মুসলিমদের আল্লাহর উপর ভরশা সবচেয়ে কম। এরা আল্লাহর কাছে বিচার না চেয়ে ইবলিসের অনুপ্রেরণায় নানারকম কাজ করে, ইহুদী নাসারাদের কাছে রিপোর্ট করে।

১৪। ইবলিস কেয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকবে। তাকে কেউ, এমনকি আল্লাহও মারতে পারবে না।

সূত্রঃ আল কোরআন, সহী হাদিস এবং তাফসির।

ফেরাউনের লাশ এর আসল রহস্য - অলৌকিক নাকি উপকথা?

ফেরাউন বা দ্বিতীয় রামিসেস
লেখক - মোমিন শেখ
ইসলাম যে মিথ্যা একটি ধর্ম এবং কোরআন যে স্বঘোষিত নবী মোহাম্মাদের তৈরি গল্পের বই, তা প্রমানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে ফেরাউন নিয়ে সুরার আয়াত, যা ধর্মান্ধদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে ফেরাউন এর লাশের মুখরোচক গল্প বর্ণনা করা হয়েছে। যা শুনলেই মনে হবে ইসলাম আসলেই একটা অলৌকিক ধর্ম। ফেরাউন সম্পর্কে কোরআনের ২৭ টি সুরায় ৭৫টি স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।

"বনী ইসরাইলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী, অত:পর তাদের পশ্চাদ্ভাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্ধেশ্যে, এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করলো, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি কোন মাবুদ নেই তিনি ছাড়া যার ইবাদত করে বনী ইসরাঈলরা। অতএব আজকের দিনে রক্ষা করছি আমি তোমার দেহকে যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। নি:শন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।" (সূরা ইউনুস:৯২)। 


কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, মুসলিম জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করে, ফেরাউন নবী মুসাকে ধাওয়া করলে, এক সাগরের তীরে আসে। মুসার লাঠির আঘাতে সাগর শুকিয়ে রাস্তা হয়ে যায়, এবং তারা পার হয়ে ওপারে চলে যায়। ফেরাউন সেই রাস্তা দিয়ে পার হওয়ার সময় ডুবে মারা যায়। এবং আল্লাহ মানবজাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখানোর জন্য নিদর্শন হিসেবে ফেরাউনের লাশকে অক্ষত অবস্থায় রেখে দেয়, যা থাকবে কেয়ামতের আগ পর্যন্ত। পরে সাগর থেকে উদ্ধার করে জাদুঘরে রাখা হয়।

বড় বড় নামের টাইটেলওয়ালা হুজুরদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে আরও জানা যায়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া মিতেরা মমি করে রাখা ফেরাউনের লাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার জন্য তা ফ্রান্সে পাঠাতে মিশর সরকারের কাছে অনুরোধ করেন। ফেরাউনের লাশ সংক্রান্ত গবেষক টিমের প্রধান ছিলেন মরিস বুকাইলি। ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণ অন্য গবেষকদের উদ্দেশ্য হলেও বুকাইলি নিজে ফেরাউনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে উদগ্রীব ছিলেন। কয়েক ঘণ্টা গবেষণার পর ফেরাউনের লাশে লবণের কিছু অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়।  ফলে স্পষ্ট হয় যে সাগরে ডুবেই ফেরাউনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার লাশ সাগর থেকে উঠিয়ে এনে মমি করা হয়। এবং সাথে সাথেই মরিস বুইকালি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তাহলে এটাই কি আসল ঘটনা? মোটেই না। চলুন ফেরাউনের মমির আসল ঘটনা জেনে আসি। তবে তার আগে মরিস বুকাইলি সম্পর্কে একটু জেনে আসা যাক।

মরিস বুকাইলি ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক। ১৯৭৩ সালে, তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সালের পরিবারের চিকিত্সক নিযুক্ত হন.একই সাথে মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের পরিবারের সদস্যরা তার রোগী ছিল। মরিস বুকাইলি ইসলামের একজন একনিষ্ঠ গবেষক ছিলেন, তবে তিনি কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। - সুত্র উইকিপিডিয়া

মরিস বুইকালির নামে অভিযোগ আছে তিনি সৌদি আরব সরকারের টাকা খেয়ে একটা বই লিখেছিলেন ইসলাম সম্পর্কে। পরে সেই বই এর কড়া সমালোচনায় অন্য একটি বই বের করা হয়। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে লাশ নিয়ে গবেষনা কতটা নিখুত ছিলো। ফেরাউনের লাশে লবন পাওয়া গিয়েছিলো বলেই যে সেটা সমুদ্রে থাকবে এমন কোনো কথা নাই। প্রাচীনকালে লাশ মমি করতে হলে লবনের দ্রবনে ডুবাতে হতো।

এবার আসি আসল কথায়। 

ফেরাউন কার নাম?
ফেরাউন (Pharaoh) কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়। প্রাচীন মিশরীয় রাজাদের উপাধি ছিল ফারাও। আরবরা বলতো ফেরাউন। শুধু পুরুষ রাজা নয়, ফেরাউন শব্দটা মহিলা শাসকদের হ্মেত্রেও ব্যবহার করা হত। মিশরে ৩৩২ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন, তাদের সবাইকেই ফারাও/ফারাউন বলা হতো। কোরআনে কোনো নির্দিষ্ট ফিরাউনের নাম উল্লেখ করা হয়নি বরং উক্ত কাহিনীতে শুধুমাত্র ফেরাউন উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অজ্ঞতা। আপনি শুধুমাত্র রাজা/প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী বলতে কাকে বুঝবেন?

ফেরাউনের লাশ কি সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়?
মুসলিমদের দাবি অনুযায়ী, ফেরাউনের লাশ লোহিত সাগরের তলদেশ থেকে আবিষ্কার করা হয়েছে। এটি একটি বড় রকমের মিথ্যাচার। নদী/সাগরের তলদেশ থেকে কোনো মমিই উদ্ধার করা হয়নি। ১৮৮১ সালে যেই মমিটি পাওয়া যায়, সেই মমিটি দ্বিতীয় রামিসেসের। তাঁর মমি উদ্ধার করা হয়েছে DB320 নামে একটা সমাধিতে। সেখানে দ্বিতীয় রামিসেস ছাড়াও আরও ৫০ টি মমি উদ্ধার করা হয় একই সাথে। তবে, দ্বিতীয় রামিসেসকে প্রথমে KV7 নামে একটা সমাধিতে রাখা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে তাকে Pinudjem II এর মমির পাশে DB320 এ স্থানান্তর করা হয়।

ফেরাউন বলে যাকে দাবি করা হচ্ছে, তার পরিচয় কি?
দ্বিতীয় রামিসেস নামের এই ফেরাউনের জন্ম (প্রায়) খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩; মৃত্যু জুলাই বা আগস্ট ১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব; শাসনকাল হচ্ছে, ১২৭৯–১২১৩ খ্রিস্টপূর্ব। তাকে রামিসেস দ্য গ্রেট বা মহান রামিসেস বলা হতো। তিনি ছিলেন মিশরের উনবিংশতম রাজবংশের তৃতীয় ফারাও রাজা। যারা বলে থাকে তার লাশ সাগর থেকে তোলা হয়েছে, হয় তাঁর মিথ্যা বলে বা তারা আসলেই জানেই না আসল ঘটনা। রামেসিস ২ সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

ফেরাউন কি সাগরের পানিতে ডুবে মারা গিয়েছিলো?
ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিমদের দাবি অনুযায়ী, ফেরাউন নবী মুসাকে ধাওয়া করতে গিয়ে সাগরের পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অথচ ফিরাউন বা দ্বিতীয় রামিসেস মৃত্যুবরণ করেছেন আর্থ্রাইটিস নামক এক রোগে। এটি প্রায়ই বৃদ্ধ বয়সের মানুষদের হতে দেখা যায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় রেমেসিস সাগরে ডুবে মরেননি। ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মাদ ওই সময় আবছা আবছা যা শুনেছিলো তাই ভুল করে কুরআনে লিখে রেখেছিলেন।

কোরআনে তো মুসা নবীর সাগর ভাগ করা আর ফেরাউনের ডুবে যাওয়ার ঘটনা আছে। কিন্তু মোহাম্মাদ এত বছর আগে ফেরাউনের লাশের ভবিষ্যৎবাণী করলো কিভাবে?
ফেরাউন আর মুসাকে নিয়ে বানানো গল্প শুধু কুরআনে না, বরং পূর্বের কয়েকটি প্রধান ধর্মগ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে অনেক আগেই, যা ছিলো বিভিন্ন জায়গার আঞ্চলিক উপকথা মাত্র। মোহাম্মাদ হিব্রু বাইবেল থেকে সরাসরি কপি-পেস্ট করে কুরআনে ঢুকিয়েছে। এবং খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেল এ কাজে সহযোগিতা করেছেন। আর নবী মুহাম্মদের সময়কালে প্রাচীন মিশরীয় মমির কথা সকলেরই জানা ছিল। তাই ফেরাউনরা মৃত্যুর পর তাদের লাশ সংরক্ষণ করে রাখে মমি করে, এটা ইসলামের নির্মাতা মুহাম্মদ অবশ্যই শুনেছেন। তাই, কোরআনে ঐ সাগর দুই ভাগ হওয়ার কিচ্ছা ও লাশ সংরক্ষনের ঘটনা জুড়ে দেয়া নিশ্চয়ই কোনো মোজেজা নয়। কুরান ও বাইবেল লিখিত হওয়ার হাজার বছর আগেই যা ঘটে গেছে, সেই জানা ঘটনার উল্লেখ থাকা কোনো কৃতিত্বের কাজ নয়।

তাহলে ফেরাউনের লাশ এতো বছর ধরে এখনও অক্ষত থাকে কিভাবে?
নবী মোহাম্মাদ রচিত কোরআনে মাত্র একজন মানুষের লাশ অক্ষত থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি মিশরের যাদুঘরগুলোতে যান, দেখবেন হাজার হাজার লাশ অক্ষত আছে এখনও। মিশর ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া অঞ্চলের আরও প্রায় ২০-২৫ টি দেশে বহু মমি আবিষ্কৃত হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে, ঐ মমিগুলো কে সংরক্ষণ করেছে ভবিষ্যৎ নিদর্শন হিসেবে? চলুন দেখি কিভাবে মমি গুলো কিভাবে সংরক্ষন করা হতো।



প্রাচীন মিশরীয়রা ছিলো অত্যান্ত বুদ্ধিমান। তারা আধুনিক সভ্যতায় অনেক অবদান রাখে। মমি তৈরি করার জন্য তারা প্রথমে লাশের পেট কেটে শরীরের বিভিন্ন পচনশীল অঙ্গ যেমন - ফুসফুস, বৃক্ক, পাকস্থলি ইত্যাদি বের করে আনতো। এসব অঙ্গ বের করার পর আবার পেট সেলাই করে দেয়া হতো। মগজ অর্ধতরল করে ফেলতো ও লোহার হুক দিয়ে টেনে বের করে আনতো। তারপর ন্যাট্রন লবণ সহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক লবণের দ্রবণে মাস তিনেক ডুবিয়ে রেখে তুলে আনা হতো। এরপর রোদে শুকানোর পালা। পরিপূর্ণভাবে লাশটা শুকিয়ে গেলে এটাকে ব্যাকটেরিয়া-বিরোধী করে তৈরি করা এক ধরনের ব্যান্ডেজে মুড়িয়ে ফেলা হতো। অবশেষে কাঠের বাক্সে প্যাকিং!

সুতরাং বোঝাই যায়, ইসলাম এবং কোরআন কতটা অলৌকিক। পুরোনো গল্প/উপকথা নতুন করে সাজিয়ে প্যাকিং করে বাজারজাত করার অর্থই হচ্ছে ইসলাম। আর বোকা মানুষদের মগজধোলাই করার জন্য শানে নুজুল তো আছেই।

ইসলামের গোড়ামি এবং একটি নিরীহ প্রাণীর জীবন

সাপ সম্পর্কে ইসলাম

"ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এ ভয়ে সাপকে ছেড়ে দেবে যে, সে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। কেননা, যখন থেকে আমরা সাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, তখন থেকে আমরা সাপ হতে নিরাপদ নই।"
 - সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) / অধ্যায়ঃ ৩৮/ সালাম হাদিস নম্বরঃ ৫১৫৮

"সাপ" শব্দটি শুনলেই অনেকে চমকে উঠে। যেনো কোনো অশুভ শক্তির প্রতীক। অনেকে তো প্রতিপক্ষকে "কালসাপ" বলে গালি দিয়েও বসে। সাপ দেখলেই, ঝাপিয়ে পড়ে মারার জন্য। আসলে সাপ কি সত্যিই আমাদের শত্রু? নাকি কোনো অন্ধবিশ্বাস এর পেছনে কলকাঠি নেড়ে আসছে?


প্রকৃতপক্ষে, সাপ একটি নিরীহ সরীসৃপ প্রাণী। কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া এরা আঘাত বা বাধা না পেলে কাউকে আক্রমণ করেনা। কোনো উপায় না পেয়ে এরা কামড় দিতে বাধ্য হয়। সাপ পরিবেশের বন্ধু, আমাদেরও বন্ধু। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে সাপের অবদান অসীম। পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এবং ইদুর সাপের প্রধান খাবার। সাপ এগুলো না খেলে আমরা হয়তো টিকতে পারতাম না। সাপের অপকারিতার চেয়ে উপকারিতা অনেক অনেক বেশি। কিন্তু তারপরও আমরা সাপ কেনো হত্যা করি?

দাদী-নানী সহ প্রায় সকলের মুখে শুনতাম, ইসলামের নবী মুহাম্মাদের হিজরতের সময় কাফেরদের হাত থেকে বাচার জন্য তাঁর সাহাবী আবুবকরকে নিয়ে এক গুহায় পলায়ন করে। এসময় একটি সাপ আবুবকরকে কামড় দেয়। এ ঘটনা বা হাদিস প্রায় সকলের জানা এবং এই ধারনা থেকেই মুখে মুখে প্রচার হয় সাপ মারা সুন্নাত। আমার আশেপাশে সবাই বিশ্বাস করে সাপ মারলে আল্লাহ খুশি হয় এবং অনেক সওয়াব দেয়। আমিও তাই জানতাম। এবং ছোটবেলা না বুঝে অনেক সাপ মেরেছি। তাহলে আমার এই না বুঝে নিরীহ প্রাণী হত্যার দায় নিবে কে?  নিশ্চই ইসলাম!

তখন অনলাইন ঘেটে সত্যতা পাওয়ার কোনো উপায় ছিলো না যে, সাপ মারলে আসলে সওয়াব হয় কিনা। কারন তখনতো মোবাইল কি সেটাই জানতাম না। অনলাইন তো অনেক দুরের কথা। চোখের সামনে অনেক সাপকে হত্যা করতে দেখেছি। গ্রাম এলাকায় সাপ মেরে পুড়িয়ে ফেলা হয়, যেনো তারা প্রতিশোধ না নিতে পারে। অবুলা এই প্রাণীর ঘাড়ে এই "প্রতিশোধ" এর কলঙ্ক কে ঝুলিয়েছে, আসুন খুজে বের করি।

"হজরত ইয়াজিদ ইবনে মাওহাব (রহ.) আবু সাইদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন—একদা আমি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর কাছে এসে বসি। এ সময় আমি তাঁর চৌকির নিচে কিছুর আওয়াজ শুনতে পাই। আমি তাকিয়ে দেখি যে একটি সাপ। তখন আমি দাঁড়ালে আবু সাইদ (রা.) জিজ্ঞাসা করেন, তোমার কী হয়েছে? তখন আমি বললাম, এখানে একটা সাপ আছে। তিনি বলেন, তুমি কী করতে চাও? তখন আমি বললাম, আমি তাকে মেরে ফেলব। তখন তিনি তাঁর বাড়ির একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বলেন, এখানে আমার চাচাতো ভাই থাকত। খন্দকের যুদ্ধের সময় সে রাসুল (সা.)-এর কাছে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায়। কেননা সে তখন নতুন বিয়ে করেছিল। তখন রাসুল (সা.) তাকে অনুমতি দেন এবং বলেন, তুমি তোমার হাতিয়ার নিয়ে যাও। সে নিজ ঘরে ফিরে তার স্ত্রীকে ঘরের দরজার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে তার (স্ত্রীর) প্রতি কলম দিয়ে ইশারা করে। তখন তার স্ত্রী বলল, তাড়াহুড়ো কোরো না। এসে দেখো কী যেন আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তখন সে ঘরে ঢুকে একটি কুিসত সাপ দেখতে পায়। সে তাকে বল্লম দিয়ে হত্যা করে এবং বল্লমে তার দেহ ফুঁড়ে বাইরে নিয়ে আসে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, এরপর কে আগে মারা গিয়েছিল—লোকটি, না সাপটি। তখন তার জাতির লোকেরা রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলেছে, আপনি দোয়া করুন, যাতে আমাদের সঙ্গী বেঁচে যায়। তখন নবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করো।’ এরপর তিনি বলেন, ‘মদিনার একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাই তোমরা যখন তাদের (সাপ) কাউকে দেখবে, তখন তাকে তিনবার ভীতি প্রদর্শন করবে যে আর বের হবে না, অন্যথায় মারা পড়বে। এরপর যদি সে (গর্ত থেকে) বের হয়, তখন তাকে মেরে ফেলবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৬৭)"

উপরের হাদিসটিতে বলা হয়েছে, জিনেরা সাপ হয়ে মানুষের সামনে আসে। এবং তাদের তিন বার ভয় দিলেও যদি বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে ওটা জিন না, অরিজিনাল সাপ। এবং তাকে মেরে ফেলতে হবে। তার অর্থ হচ্ছে, ইসলামে সাপ মারতে বলা হয়। ইসলামী ভাস্যমতে যেহেতু জিনেরা সাপ হয়ে আসে সেহেতু তারা প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

তাহলে পাঠক কি বুঝলেন? একটি গোড়ামি উক্তিকে কেন্দ্র করে, পরিবেশের একটি অন্যতম উপাদান এবং একটি প্রাণীকে নির্বিচারে হত্যা করে, নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

সাপ কি সত্যিই প্রতিশোধ নেয়? সাপ কি তার শত্রুকে চিনে রাখে? উত্তর - না। সাপের মস্তিস্ক খুবই ছোট। এবং এটা অবশ্যই সম্ভব।  কিন্তু তা হতে হবে কোনও সস্তার সিনেমা বা অতি খাস্তা বাংলা বা হিন্দি সিরিয়াল। সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। এবং এরা কিছুই মনে রাখতে পারেনা। তারা শুধু এটুকু জানে, বাঁচতে গেলে খেতে হয়, খেতে গেলে হত্যা করতে হয়। নিজের শক্তি সম্পর্কে তার ধারণা রয়েছে। নিজের আকার সম্পর্কে সাপ ওয়াকিবহাল। আর রয়েছে যৌনতার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সাপ মানেই বিষধর নয়। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫০০ প্রজাতির সাপ বিষধর। আমাদের দেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ থাকলেও বিষধর সাপ রয়েছে মাত্র ২০ প্রজাতির।

আসুন আরও একটি হাদিস দেখি -

আমর ইবনু মুহাম্মদ আন নাকিদ (রহ.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘সব সাপ মেরে ফেলো।  বিশেষ করে পিঠে দুটি সাদা রেখাবিশিষ্ট ও লেজ কাটা সাপ।  কেননা এ দুটি গর্ভপাত ঘটায় এবং দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়।’ 

বর্ণনাকারী বলেন, ‘ইবনে ওমর (রা.) যে কোনো সাপ দেখলে মেরে ফেলতেন।  একদিন আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রহ.) তাকে দেখলেন যে, তিনি একটি সাপ ধাওয়া করছেন।  তখন তিনি বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বাড়িঘরে অবস্থানকারী সাপ মারতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম : ৫৬৩১)। 

বিশিষ্ট কলা বিজ্ঞানী (চায়ের দোকানের বিজ্ঞানী) ছাড়া এ উক্তি কোনো সুস্থ/শিক্ষিত মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না যে, সাপের পিঠের সাদা দাগ ও লেজ কাটা, গর্ভপাত ঘটায় আর মানুষের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়ে অন্ধ বানিয়ে দেয়। আজ পর্যন্ত এমন কোনো রোগী পৃথিবীতে দেখা গিয়েছে কিনা আমার জানা নাই। একটা নিরীহ প্রাণীর পিঠে এতো মিথ্যা অপবাদ চাপাতে তাদের কিঞ্চিৎ পরিমাণ দ্বিধাবোধ হয়নি। আর হবেই বা কেনো? তাদের মতে মানুষ পৃথিবীর সেরা জীব। দুঃখিত। মানুষ না পুরুষ। আর বাকিরা তাদের ভোগ্য বস্তু।

লেখক - মোমিন শেখ